সংক্ষিপ্ত

হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প 'অবৈধ'১০৪ ভারতীয়কে ফেরত পাঠালেন,তারা শোনালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই প্রথম দফায় ফেরত পাঠালেন ১০৪ জন অবৈধ ভারতীয়কে ( Indians Deported From US)। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বুধবারই প্রথম বিমানটি নেমেছে অমৃতসরে। কারও কারও বাড়ি পঞ্জাবে (Punjab)। কেউ আবার মোদীর রাজ্য গুজরাটের বাসিন্দা। কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (US)গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্র থেকে। সংশ্লিষ্টরা ভারতে ফিরেই জানালেন তাঁদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।

হোশিয়ারপুর জেলার বাসিন্দা হরবিন্দর সিং। পঞ্জাবের তাহলি গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকায়। তিনি জানিয়েছেন প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার প্রতারণা কা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। মার্কিন ভিসা দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনি দিল্লি থেকে কাতার হয়ে বিমানে প্রথমে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে সড়ক পথে আমেরিকায় প্রবেশ। তিনি আরও জানিয়েছেন, ট্যাক্সিকে কলম্বিয়া ও পানামা হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রচুর রাস্তা হাঁটতে হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য।

বছরের প্রথম থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল, গরমের রেকর্ডে ২০২৪ কে পিছনে ফেলল ২০২৫-এর জানুয়ারি

হরবিন্দর আরও জানিয়েছেন, পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়েছে পাঁয়ে হেঁটে। ছোট্ট একটি নৌকায় সমুদ্র পাাড়ি দিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে যাওয়া সময় প্রায় চার ঘণ্টা জীবন হাতে নিয়ে যাত্রা করতে হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের নৌকা ডুবে গিয়েছিল। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর একজন মারা গিয়েছিল পানামার জঙ্গলে। শুধু হরবিন্দর নয়, দারাপুর গ্রামের সুখপাল সিং-এ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পয়সা রোজগারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৫ ঘণ্টায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতেহয়েছিল। রাস্তায় কেউ অসুস্থ বা আহত হলে তাকে সেখানেই ফেলে রেখে যাওয়া হত। তিনি আরও জানিয়েছেন রাস্তায় মৃতদের পড়ে থাকতেও দেখেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, এত কষ্ট করেও তিনি আমেরিকায় পা রেখতে পারেননি। তাঁকে মেক্সিকোতে আটক করা হয়েছিল। ১৪ দিন একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সেখানে তাঁরই মতই প্রচুর পঞ্জাবী ছেলে রয়েছে।

'নিজেদের ধর্মকে নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে', মমতার দিকে অভিযোগের আঙুল শুভেন্দু অধিকারীর

দেশে ফেরান হয়েছে জসপাল সিং-কেও। তিনি দাবি করেছেন পুরো রাস্তাই তাঁর হাত ও পা চেন দিয়ে বাঁধা ছিল। অমৃতসর বিমান বন্দরে নামার পরই তিনি শেকল মুক্ত হন। তিনি জানিয়েছেন, একজন ট্র্যাভেল এজেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাকে আইনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে, যার মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা। তাকে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ছয় মাস অবস্থান করেছিলেন, ২৪ জানুয়ারি মার্কিন সীমান্তরক্ষীরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।

পুলিশের বন্দুকে লাগাম পরাল মহম্মদ ইউনুস সরকার, গুলি চালাতে হলে মানতে হবে এই নিয়মগুলি

নির্বাসিতদের মধ্যে ছিল কানুভাই প্যাটেল ও তাঁর মেয়ে। তাঁরা দাবি করেছেন, এক মাস আগে তার বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে ইউরোপে গিয়েছিলেন। ইউরোপে পৌঁছানোর পর তার পরিকল্পনা কী ছিল আমার কোনও ধারণা নেই। তার সাথে শেষবার কথা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি। আমাদের কোনও ধারণা নেই সে কীভাবে আমেরিকায় পৌঁছেছিল। আমেরিকা থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় আমেরিকা ভ্রমণের জন্য বিশাল ঋণ নিয়েছিলেন কিন্তু এখন তাদের ঋণের চাপ রয়েছে। তারা এখন সেই এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন।

সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ১০৪ জনের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানা ও গুজরাটের ৩৩, পঞ্জাবের ৩০ জন, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের তিন জন আর চণ্ডীগড়ের ২ জন। এই দলে রয়েছেন ১৯ জন মহিল আর ১৩ জন নবালক। যারমধ্যে পাঁচ ও সাত বছরের চার ছেলে ও ২ জন মেয়েও রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে এরা প্রক্যেতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিল বা যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।