এদেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা।  বিশ্বে করোনা সংক্রমণে প্রথম ৫ দেশের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। সাধারণ মানুষ থেকে, উচ্চপদে থাকা সরকারি আধিকারকি হয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না মারণ ভাইরাসের হাত থেকে। আর বিশ্বব্যাপী মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের থাবায় এবার প্রাণ গেল এক তামিল বিধায়কের।

 

গত ২ জুন  ডিএমকে বিধায়ক জে আনবাঝাগনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  তখনই তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।  গত ৩ জুন থেকে ভেন্টিলেশনে ছিলেন ডিএমকে বিধায়ক। বুধবার সকালে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন আনবাঝাগন । চিকিৎসকদের সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও গত সোমবার থেকেই ডিএমকে বিধায়কের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছিল। অবশেষে নিজের ৬২তম জন্মদিনের সকালেই  প্রয়াত হন তিনি।

গতবছর ডিসেম্বর নয় অগস্টেই করোনা ছড়ায় উহানে, চাঞ্চল্যকর দাবি হার্ভার্ডের

বাংলায় আমফানের মোকাবিলা করতে এসে মারণ ভাইরাসের হামলা, কোভিডে আক্রান্ত এনডিআরএফ জওয়ানরা

জুলাইয়ের শেষে দিল্লিতে আক্রান্ত হবেন সাড়ে ৫ লক্ষ, এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণ মানতে নারাজ সরকার

হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ভেন্টিলেশন-সহ যাবতীয় মেডিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও আনবাঝাগনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল৷ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷ তামিলনাড়ুতে খুবই দুঁদে রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি৷

ডিএমকে-র প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অন্যতম আনবাঝাগন। তিনি  ৩ বার টি নগর আসন থেকে ডিএমকের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন। ২০১৬ ছাড়াও ২০০১ ও ২০১১ সালের ভোটে জেতেন তিনি। করুণানিধির সঙ্গেও তাঁর অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক ছিল।  করোনাভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনে তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে। ক্রিকেট পাগল আনবাঝাগনের ১৫ বছর আগে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছিল। দলের বিধায়কের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন৷ শোকজ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামীও। 

এদিকে বিধায়ক আনবাঝাগনকে   হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই  তামিলনাড়ুর বিরোধী দল ডিএমকে অভিযোগ করছে রাজ্য সরকার করোনা ভাইরাসের সঙ্কট মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের করোনা আক্রান্ত রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজারের ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমমের শিকার হয়েছে ১,৬৮৫ জন। রাজ্যটিতে করোনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩০৭ জনের।