প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লিতে প্রতিবাদী কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল ঘিরে যে হিংসতাত্মক ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই মামলায় সোমবার আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। তার নাম জসপ্রীত সিং ওরফে সানি। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগরের এই বাসিন্দাকেই ২৬ জানুয়ারী লাল কেল্লার গম্বুজের উপর চড়তে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

উল্লেখ্য, এর আগে লালকেল্লা চত্ত্বরে তরোয়াল চালানোর অভিযোগে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মনিন্দর সিং নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জসপ্রীত, মনিন্দরেরই এক সহযোগী বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। গত ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পক্ষ থেকে ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে লালকেল্লায় হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত ২০ জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই ছবিতে মনিন্দর সিং-এর পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল জসপ্রীত, বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেইসঙ্গে তাদের দাবি, লাল কেল্লায় দুটি গম্বুজেও চড়েছিল এই ব্যক্তি। একটি ছবিতে তাকে লালকেল্লার উপরে লাগানো ইস্পাতের টেনসিল ধরে আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।

এদিন তাঁর গ্রেফতারির পর দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, লাল কেল্লার ঘটনার  একটি ভিডিওতে গ্রেফতার হওয়া জসপ্রীতকে তরোয়াল, খানদা, লোহার রড, কুড়ুল নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর নৃশংস হামলা চালাতে দেখা গিয়েছে। সেইসঙ্গে সে ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধটিরও ক্ষতি করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ট্রাক্টর মিছিলে অংশ নেওয়া প্রতিবাদীদের উসকানি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নজিরবিহীন হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কৃষক পূর্বনির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে জাতীয় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। প্রতিবাদ মিছিল থেকে কয়েকশ কৃষক এবং ট্রাক্টর চালক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েছিল। স্মৃতিসৌধটির উপরে উড্ডীন জাতীয় পতাকা নামিয়ে একটি ধর্মীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও দেখে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা এবং আটক করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তারই অংশ হিসাবে এদিন গ্রেফতার করা হয় জসপ্রীতকে।