কর্নাটকেও ১২০ জন বাংলার অভিবাসী শ্রমিকের ফেরা আটকে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ সংকেতের ওপর। শুক্রবার ১২০ জন অভিবাসী শ্রমিক বিক্ষোভ দেখান শিবামোগ্গার জেলা শাসকের দফতের সামনে। বাড়ি ফেরার বন্দ্যোবস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একটি ট্রেনেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু জেলা শাসকের দফতের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এখনও রাজ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার সবুজ সংকেত দেননি। তাই ১২০ জন শ্রমিককে আটকে রয়েছেন কর্নাটকেই। তবে বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছতে ৩০ দিনে ১০৫টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের দাবি করেছিলেন। যে ট্রেনে করে বাড়ি ফেরানো হবে শ্রমিকদের। 

অন্যদিকে কাজ নেই। নেই কোনও অন্ন সংস্থানও। কিন্তু লকডাউনের এই দিনগুলিতে অধিকাংশ সময়ই অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত থাকতে হয়েছে। এবার সহ্যের সীমা পার করেছেন ওঁরা। তাই বাড়ি ফিরতে মরিয়া পশ্চিম বাংলার শ্রমিকরা নয়ডা থেকে বাংলায় ফেরার জন্য হাঁটা পথেই যাত্রা শুরু করেছেন। গত কয়েক দিনে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌ এসে হাজির হয়েছেন। এখনও বাড়ি ফিরতে তাঁদের ৯৫০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে।

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় দিনে মৎসজীবীদের পাশে দাঁড়ালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, কৃষকদের ফসল বিক্রিতে ছাড়

আরও পড়ুনঃ করোনা সংকট মোকাবিলায় অভিবাসী শ্রমিক ও শহরের দরিদ্রের পাশে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, বিপুল অর্থ সাহায্য ভারতকে ..

আরও পড়ুনঃ করোনা সংকটের জেরে কি ১৩ শতাংশ কর্মী সংকোচন জোমাটেতে, মাস মাইনেও পড়তে চলেছে কোপ ...  


কেন্দ্রীয় সরকার, উত্তর প্রদেশ সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের কোনও রকম সাহায্য করেনি বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের গলায় নেই কোনও অভিযোগ। রয়েছে একটাই আর্তি। খুব তাড়াতাড়ি যেন বাড়ি ফিরতে পারেন। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে তপ্ত লখনৌ আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ওঁরা ২৩ জন হেঁটে যাচ্ছিলেন একরাশ ক্লান্তি আর এক পেট খিদে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু তবু থামতে মরিয়া তাঁরা। ২৩ জন অভিবাসী শ্রমিকের একজন জানিয়েছেন, লকডাউন ঘোষণার পরই তাঁদের কাজ চলেগেছে।  চল্লিশ দিনেরও বেশি সময় বাড়ির বাইরে থাকায় তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। ট্রাক ভাড়া করার মত পয়সা তাঁদের হাতে নেই। তাই হেঁটেই মালদা পৌঁছাতে চান তাঁরা।

অভিবাসী শ্রমিকরা জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ অবশ্য তাঁদের একটি বাসে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কাছে কোনও টাকা নেই শুরু বাসের চালক কিছু দূরে নিয়ে যাওয়ার পরই ২৩ জন বাংলার শ্রমিককে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে। যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতে চান ওঁরা। তবে বাড়ি ফেরার পর আর কোনও দিনই কাজের জন্য ভিন রাজ্যে যাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা।