কেরলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘোষণা করা হল 'রাজ্য বিপর্যয়' পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য দফতরের ৪০হাজার কর্মী ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কেরলের পর্যটন শিল্পে


কেরলে এখনও পর্যন্ত ৩ জনের শরীরে মিলেছে নোভেল করোনা ভাইরাসের জীবাণু। আক্রান্তরা তিন জনেই গত মাসে চিনের উহান প্রদেশ থেকে ভারতে ফেরেন। গত সপ্তাহেই কেরলে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলে। সোমবার তৃতীয় করোনা আক্রান্তের কথা জানায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আইসোলেশব ওয়ার্ডে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। রাখা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণে। সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে করোনাকে 'রাজ্যের বিপর্যয়' বলে ঘোষণা করল কেরল সরকার। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: ভারত ছাড়তে হবে বাংলাদেশিদের, হুঁশিয়ারি দিয়ে মহারাষ্ট্রে পড়ল পোস্টার

এদিকে রাজ্যের বিপর্যয় ঘোষণার পরেই স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি আরও ৪০টি সরকারি দফতরের কর্মীদের করোনা মোকাবিলার কাজে নামানো হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ৪০ হাজার সরকারি কর্মীর ছুটি। এছাড়াও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের আরও ১২০০ কর্মীকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের চিহ্নিত করতে হিমশিম খাচ্ছে কেরল সরকার। যদিও ব্যবস্থার কোনও ত্রুটি হচ্ছে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা। 

আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব আইন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ওঁদের, ওয়াঘা পেরিয়ে ভারতীয় হওয়ায় ইচ্ছা ২০০ জন পাক হিন্দুর

অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলে বার বার জানাচ্ছে কেরল সরকার। এদিকে করোনায় আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে এক জনের চিকিৎসা চলছে কাসারগড়ে, অপরজনের ত্রিশূরে এবং আরেকজনের আলাপ্পুজায়। গত কয়েক দিনে ৮০ জন এই তিন করোনায় আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন। তাঁদের খোঁজ করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। গোটা রাজ্যে প্রায় ২৫০০ মানুষকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৫ জন রয়েছেন আইসোলেশন ওয়ার্ডে। 

এদিকে করোনাকে রাজ্যের বিপর্যয় ঘোষণা করতেই তার প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। একের পর এক বাতিল হচ্ছে ঈশ্বরের আপন দেশে হোটেল বুকিং। এর আগে নিপা ভাইরাসের কারণে গতবছর কেরলে ব্যাপক ভাবে মার খেয়েছিল পর্যটন। 

এদিকে মারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিনে মৃত্যু হয়েছে ৪৫০ জনের। বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। পৃথিবীর কুড়ি হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত এই রোগে। চিনের পর হংকং-এও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু।