- Home
- India News
- Yogi Adityanath: যোগী আদিত্যনাথকে 'দাদা' পাতিয়ে বিয়ের কার্ড পাঠালেন কেরলের তরুণী! কী লিখলেন তিনি?
Yogi Adityanath: যোগী আদিত্যনাথকে 'দাদা' পাতিয়ে বিয়ের কার্ড পাঠালেন কেরলের তরুণী! কী লিখলেন তিনি?
কেরলের তরুণী অরুন্ধতী আগামী ২০ ডিসেম্বর রাহুলের সঙ্গে তাঁর বিয়েতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একটি হাতে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, যোগীর একটি আবেগঘন ভিডিও দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কাঁদা মানেই দুর্বলতা নয়।

যোগী আদিত্যনাথকে বিয়েতে ডাকলেন কেরলের তরুণী
কেরলের এক তরুণী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিজের বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি যোগীকে নিজের 'দাদা' হিসেবে মানেন। তরুণীর মতে, যোগীর কথা শুনেই আবেগ এবং মানসিক জোর নিয়ে তাঁর নিজের ধারণা বদলে গিয়েছিল।
অরুন্ধতী আগামী ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বর রাহুলের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন। কেরলের আলুভার গ্রিন পার্ক কনভেনশন সেন্টারে তাঁদের বিয়ের আসর বসবে। এই বিশেষ দিনের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি হাতে লেখা কার্ড পাঠিয়েছেন। সঙ্গে দিয়েছেন দু'পাতার একটি চিঠি। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কেন যোগী তাঁর জীবনে এত স্পেশাল।
অরুন্ধতী চিঠিতে নিজের ছোটবেলার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি যোগী আদিত্যনাথের একটি ভিডিও দেখেছিলেন। সেই ভিডিও দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, আবেগপ্রবণ হওয়া বা সহজে কেঁদে ফেলা মানেই কেউ দুর্বল নয়।
অরুন্ধতী নতুন জীবন শুরু করার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে বিয়েতে এসে আশীর্বাদ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তিনি এও জানেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর কাঁধে অনেক দায়িত্ব। তাই তিনি যদি বিয়েতে আসতে নাও পারেন, তাঁর আশীর্বাদ এবং শুভেচ্ছাই অরুন্ধতীর কাছে অনেক বড় পাওনা হবে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

যোগীর ভিডিও কীভাবে তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দিল
অরুন্ধতী জীবনের সবচেয়ে দামি দিনে যোগী আদিত্যনাথকে পাশে চেয়ে চিঠি শুরু করেছেন। তবে এটা নিছকই কোনও সাধারণ আমন্ত্রণপত্র নয়। যোগীর একটি ভিডিও কীভাবে তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছিল, চিঠিতে তিনি সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন।
অরুন্ধতী ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়ে লেখেন, আগে কোনও কারণে কষ্ট পেলে বা আঘাত পেলে তিনি খুব কাঁদতেন। তখন তাঁর বন্ধুরা বলত, আবেগপ্রবণ হওয়া মানেই দুর্বলতা। তাঁকে আরও শক্ত হতে হবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অরুন্ধতীও বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, নিজের আবেগ প্রকাশ করাটা লজ্জার। তিনি এত সহজে কেঁদে ফেলেন বলে কখনও শক্ত মনের মানুষ হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়।
কিন্তু তাঁর এক তুতো ভাই তাঁকে যোগী আদিত্যনাথের একটি ভিডিও দেখান। সেখানে নিজের মনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন যোগী। আর এই ভিডিওটাই অরুন্ধতীর চিন্তাভাবনা পুরোপুরি বদলে দেয়।
অরুন্ধতী জানান, তাঁর ভাই তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে আবেগপ্রবণ হওয়া মানেই দুর্বলতা নয়। যোগী আদিত্যনাথের কাজই তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দেবে বলে ভাই তাঁকে জানান।
এই কথাগুলোই অরুন্ধতীর নিজেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। তিনি প্রথমবার বুঝতে পারেন, মানসিক জোর মানে এই নয় যে কখনও আবেগ প্রকাশ করা যাবে না বা কাঁদা যাবে না।
বরং তিনি বুঝতে শেখেন, মন থেকে কিছু অনুভব করা, কঠিন সময়ের পর ঘুরে দাঁড়ানো এবং এগিয়ে চলার সাহসই হল আসল মানসিক জোর।
কেন যোগী আদিত্যনাথকে নিজের দাদা মানেন অরুন্ধতী
অরুন্ধতী চিঠিতে লিখেছেন, যখনই তাঁর নিজের উপর সন্দেহ তৈরি হত, তখনই যোগী আদিত্যনাথের জীবনসংগ্রাম তাঁকে অনুপ্রেরণা জোগাত।
তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোনও মানসিক জোর নেই। বরং মানুষ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কীভাবে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে, সেটাই আসল।
অরুন্ধতী উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের দায়িত্ব সামলানো এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য যোগীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, যোগীর এই পথচলা তাঁকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে যে, জেদ, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
এই শিক্ষাগুলোর জন্যই তিনি যোগীকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেন না। তিনি তাঁকে নিজের দাদার চোখে দেখেন, যাঁর জীবনসংগ্রাম তাঁকে সাহস এবং অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
Uttar Pradesh Chief Minister Yogi Adityanath (@myogiadityanath) received a handwritten letter from Arundhati, a woman from Kerala who regards him as an elder brother. In the letter, she invited him to her December 20 wedding and sought his blessings for the couple.
(Image Source: Third Party)
#UttarPradesh
— Press Trust of India (@PTI_News) October 17, 2026
অরুন্ধতী এও জানান, মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান করার পিছনে অন্যদের নিজস্ব কারণ থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর কাছে যোগীর শৃঙ্খলা, জেদ, সাহস এবং দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বিয়ের কার্ডের সঙ্গেই জুড়ে গেল ব্যক্তিগত বার্তা
অরুন্ধতী রাহুলের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন। তিনি জানান, নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এই লড়াইয়ে যিনি অজান্তেই তাঁর সঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকে তিনি বিয়েতে আমন্ত্রণ জানাতে চান।
তিনি বিয়েতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে তাঁদের কাছে এক বিরাট সম্মান এবং আশীর্বাদ বলে জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এও জানেন যে, সরকারি কাজের চাপে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে হয়তো বিয়েতে আসা সম্ভব হবে না।
তিনি চিঠিতে লিখেছেন, নতুন জীবনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ এবং শুভেচ্ছাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা হবে।
তিনি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে চিঠির সঙ্গেই বিয়ের কার্ডটি পাঠিয়েছেন।
চিঠির শেষে অরুন্ধতী যোগী আদিত্যনাথকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, তাঁকে না চিনেও যোগী এক ছোট্ট মেয়েকে শিখিয়েছেন যে আবেগপ্রবণ হওয়া মানেই দুর্বলতা নয়। যোগীর কাজ দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছেন, অনেক সময় চুপচাপ নিজের কাজ করে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় জবাব।
তাই তাঁর এই হাতে লেখা আমন্ত্রণপত্র শুধু বিয়ের কার্ড নয়। এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তাঁর ছোটবেলার এক অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে নিজের আবেগকে মেনে নিতে এবং মানসিক জোরের আসল অর্থ বুঝতে সাহায্য করেছে।





