প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শেষ বই প্রকাশ নিয়ে রীতিমত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন তাঁর ছেলে ও মেয়ে। দুজনেই কংগ্রেসের সদস্যরা। ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এখনও বইটি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তবে বইটি প্রকাশের কাজ চালিয়ে যেতে পাল্টা অনুরোধ জানিয়েছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায়ায় বই প্রকাশ নিয়ে তরজায় জড়িয়েছেন দুই ভাইবোন। 

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে তাঁর লিখিত সম্মতির আগে বই প্রকাশ বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারই পাল্টা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় ভাইকে সস্তা প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের বাবার শেষ বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাধা তৈরি করতেও নিষেধ করেছেন। 

ট্যুইট যুদ্ধ এখানেই শেষ হয়নি। পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ বলেছেন বইটির কিছু অংশ নির্দিষ্ট কয়েকটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ঘোরাফেরা করছে। যা যথেষ্ট অস্বস্তিকর। তাঁরা বাবা নেই। আর সেই কারণেই তাঁর পুত্র হিসেবে বইটির চূড়ান্ত অনুলিপি প্রকাশ করার আগে তাঁর সম্মতি প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর লিখিত সম্মতি ছাড়া যাতে বইটি প্রকাশ না করা হয় তার দাবি জানিয়েছেন। প্রকাশ সংস্থাকে এই মর্মে চিঠি পাঠাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

পাল্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে শর্মিষ্ঠা তাদের বাবাই লেখা শেষ বই প্রকাশে বাধা তৈরি না করার অনুরোধ জানিয়েছন। তিনি বলেছেন তাঁর বাবা অসুস্থ হওয়ার আগেই বইটির পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছিলেন। চূড়ান্ত খসড়াটিতে তাঁর বাবার হাতে লেখা নোট ও মন্তব্য রয়েছে যা কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। বই প্রকাশে বাধা না দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

'দ্যা প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স' প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্য়ায়ের লেখা শেষ বই। এই বইটে তিনি দুই প্রধানমন্ত্রী- মনমোহন সিং ও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে এই বইতে কংগ্রেসের ২০০৪ সালে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের কথাই উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি হারের কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতি সনিয়া-মনমোহন জুটিতে দায়ি করেছিলেন- এজাতীয় কিছু লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার পরেই বইটি নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন প্রণব পুত্র অভিজিৎ।