ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাংশ লাদাখে এসে পৌঁছেছে। পয়লা মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এই দেহাংশ দর্শন করতে পারবেন। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে এই পবিত্র অংশ গ্রহণ করেন।
ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাংশ লাদাখে এসে পৌঁছেছে। বুধবার এই পবিত্র দেহাংশগুলি লাদাখে আনা হয়। পয়লা মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তা দর্শন করতে পারবেন।
লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা, উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এয়ার ফোর্স বিমানবন্দরে এই পবিত্র দেহাংশ গ্রহণ করেন। বায়ুসেনার একটি বিশেষ বিমানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এই পবিত্র দেহাংশগুলি নিয়ে আসা হয়।
লাদাখে ভগবান বুদ্ধের দেহাংশ
এই উপলক্ষে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বলেন, "আজ বুদ্ধের পবিত্র দেহাংশ লাদাখে আনা হয়েছে এবং এখানে স্বাগত জানানো হয়েছে।" পবিত্র দেহাংশগুলির সুরক্ষার বিষয়ে সাক্সেনা জানান, "আপাতত দেহাংশগুলিকে বিমানবন্দরের টেকনিক্যাল এলাকা থেকে লিভিং কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হবে।"
এই প্রদর্শনীটি বুদ্ধ পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে শুরু হচ্ছে। সাক্সেনা নিশ্চিত করে বলেন, "পয়লা মে, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন এগুলি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।"
বিশেষ অনুষ্ঠান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর যোগ করেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিন এখানে আসছেন, এবং তাঁর সামনে এটি একটি বড় অনুষ্ঠান হতে চলেছে।" বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে দেহাংশগুলি জিভাতসালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী মাসের পয়লা তারিখ থেকে শুরু হতে চলা প্রদর্শনীর জন্য সেখানেই সেগুলি স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই প্রথমবার দেশের ভেতরে কোনও প্রদর্শনীর জন্য এই পবিত্র দেহাংশগুলিকে তাদের স্থায়ী জায়গা থেকে সরানো হল। এই দেহাংশগুলিকে ভগবান বুদ্ধ এবং তাঁর বিশ্বজনীন শিক্ষার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। এই আয়োজনটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব এবং ভারতের বিশাল বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাদাখ তার বিখ্যাত মঠ এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের জন্য পরিচিত, তাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান স্থান হিসেবে লাদাখকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ১১ এবং ১২ মে এই প্রদর্শনীটি জানস্কারে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর ১৪ মে লেহ-তে একটি চূড়ান্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৫ মে এই পবিত্র দেহাংশগুলি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল সাংস্কৃতিক সংযোগ বাড়ানো এবং এই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক পর্যটনে গতি আনা।
