ভোটে বিরোধী পক্ষ বেশি আসন পেয়েছে কিন্তু সরকার গড়েছে বিজেপি। সাম্প্রতিককালে এমন ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে বারবার দেখা গেছে। যার নবতম সংযোজন মধ্যপ্রদেশ। কমলনাথ ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়েই এবার এই রাজ্যে সরকার গড়ার পথে এগোচ্ছে বিজেপি শিবির। কাজে লাগান হয়েছে  সরকার পতনের সেই চিরাচরিত ফর্মুলা।

২০১৭ সালে ঠিক এভাবেই নীতিশ কুমারের সঙ্গে বিহারে জোট সরকার গড়েছিল ভারতীয় জনতাপার্টি। সেবার আরজেডির সঙ্গে সরকার নিজেই ভেঙে দেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। সেবার দুনর্তীর সঙ্গে আপোস করতে পারবেন না বলে সরকার ভাঙছেন বলে জানিয়েছিলেন নীতিশ। তারআগে মহাজোট সরকারের বৃহত্তম শরিক তথা লালুপ্রসাদের দল আরজেডি-র সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছিল নীতিশ কুমারের। দুর্নীতির মামলায় লালু এবং তাঁর ছোট ছেলে তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বীপ্রসাদ যাদব সিবিআই তদন্তের মুখে পড়ায় সেই টানাপড়েন আরও বেড়েছিল। অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত তেজস্বীর, বলছিল নীতীশের দল জেডি(ইউ)। নীতিশ নিজে প্রথম কয়েক দিন নীরব থাকার পর নিজেও জানান, তেজস্বীর পতগ্যাগই কাম্য। কিন্তু লালুপ্রসাদ এবং তাঁর গোটা দল তেজস্বীর পাশেই ছিল। তেজস্বী পদত্যাগ করবেন না বলে আরজেডি-র তরফে বার বার জানানো হচ্ছিল। নীতিশের সঙ্গে আরজেডির এই দ্বন্দকে কাজে লাগিয়েই সেবার জেডিইউ-এর জোট শরিক হয়ে সরকার গড়ে বিজেপি। 

আরও পড়ুুন: করোনা আতঙ্কের মাঝেই রঙিন হোলি, শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি

উত্তর-পূর্বের রাজ্যেও কার্যত একই মডেল অনুসরণ করে পদ্মশিবির। নাগাল্যান্ডে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে সরকারে আসে বিজেপি। ২০১৭ সালে গোয়া বিধানসভাতেও পিছিয়ে ছিল বিজেপি। কংগ্রেস সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হন। কিন্তু ভোট পরবর্তী অঙ্কে মাত দেয় বিজেপি। কংগ্রেসের দুই তৃতীয়াংশ শিবির যোগ দেয় বিজেপিতে।

নিজেদের চেনা ছকে কন্নড়ভূমি কর্ণাটকেও দীর্ঘ নাটকের পর মসনদ দখল করে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন ইয়েদুরাপ্পা। তবে মহারাষ্ট্রে একই মডেলে খেলতে গিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে যেতে হয়েছিল অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদী দলকে। এই রাজ্যে উল্টে বিজেপিতকে ছেড়ে কংগ্রেস-এনসিপি-র সঙ্গে সরকার গড়ে শিবসেনা। যদিও এই জোট ভাঙার চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে ফের সফল হল তাদের চেনা মডেল।

আরও পড়ুন: উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির থেকে মথুরার রাজপথ হয়ে বারাণসী, আজ ফাগের রঙে রঙিন গোটা দেশ

মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের বিরুদ্ধে জ্যোতিরাদিত্যের উষ্মাকে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার ভাঙার খেলায় কাজে লাগিয়েছে বিজেপি শিবির। এদিকে বিধায়ক অপহরণ করে কোটি কোটি টাকার  ঘুষ দিয়েই অসৎ পথে বিজেপি সরকার দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিজ্বিজয় সিং-এর অভিযোগ দলের বিধায়কদের কিনতে প্রত্যেককে ২৩ থেকে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছে পদ্ম শিবির। এরজন্য সবমিলিয়ে বিজেপি ১০০ কোটি টাকার উপর খরচা করছে বলেই অভিযোগের আঙুল উঠছে।