বুধবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ব্যানারে মণিপুরের ১০টি জেলায় মিছিল করেছে, যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা মেইতি সম্প্রদায়কে উপজাতি মর্যাদা দেওয়ার বিরোধিতা করছে।

মণিপুর হাইকোর্টের একটি রায় দেশের উত্তর পূর্বের পার্বত্য রাজ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর কর্মীরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মণিপুর বেসামরিক প্রশাসনের আবেদনে বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ৩ মে সন্ধ্যা থেকে এই মোতায়েন করা হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা চলছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

হিংসার ঘটনা উসকে দেওয়ার ভয়

বুধবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ব্যানারে মণিপুরের ১০টি জেলায় মিছিল করেছে, যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা মেইতি সম্প্রদায়কে উপজাতি মর্যাদা দেওয়ার বিরোধিতা করছে। ১৯ এপ্রিল, মণিপুর হাইকোর্ট তার একটি সিদ্ধান্তে বলেছিল যে সরকারের মেইতি সম্প্রদায়কে উপজাতি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত এবং হাইকোর্ট এর জন্য রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। রায়ের প্রতিবাদে মণিপুরের বিষ্ণুপুর ও চন্দ্রচুড়পুর জেলায় সহিংসতা হয়েছে। হিংসার ঘটনার বিস্তার রোধ করতে, সরকার পাঁচ দিনের জন্য রাজ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে। চন্দ্রচুড়পুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

Scroll to load tweet…

এদিকে, এ কারণেই মণিপুরের একটি-দুটি নয়, আটটি জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর মনোভাব নিয়ে এই ৮ জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে রাজ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। বর্তমানে ৫ দিনের জন্য এসব সেবা বন্ধ রয়েছে। এদিকে বক্সার মেরি কমও বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলেছেন তিনি।

জ্বলন্ত মণিপুর বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন মণিপুরের বাসিন্দা আন্তর্জাতিক বক্সার মেরি কম। মেরি কম টুইট করে লিখেছেন- 'আমার মণিপুর জ্বলছে, দয়া করে বাঁচাতে সাহায্য করুন।' মেরি কমের তরফে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অর্থাৎ পিএমও ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকেও ট্যাগ করা হয়েছে এই টুইটে। এরই সাথে মেরি কম তার টুইটার হ্যান্ডেলে মণিপুরে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ছবিও শেয়ার করেছেন।

বিতর্ক কি

মণিপুরে মেইতি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ এবং এই সম্প্রদায়টি ইম্ফল উপত্যকা এবং এর আশেপাশের এলাকায় বসতি স্থাপন করে। মেইতি সম্প্রদায় বলছে যে মায়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে তারা রাজ্যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। একইসঙ্গে, বিদ্যমান আইনে তাদের রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় বসতি স্থাপনের অনুমতি নেই। এই কারণেই মাইতি সম্প্রদায় তাদের আদিবাসী ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিল।

আদিবাসী শ্রেণী কেন প্রতিবাদ করছে?

অন্যদিকে, হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, মেইতি সম্প্রদায়কে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের জমি ও সম্পদ দখল করে নেবে।