দিল্লির হিংসার আগুনে পোড়া ছাই থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। তারমধ্যেই, অশান্ত হয়ে উঠল দেশের আরেক প্রান্ত। উত্তর-পূর্বের রাজ্য মেঘালয়-এ শুরু হয়েছে উপজাতি ও অ-উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ। রবিবার সকালে পূর্ব খাসি পাহাড় জেলায় নিজের বাড়িতেই তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির হাতে খুন হয়েছেন উপাহাস উদ্দিন নামে এক ৩৭ বছর বয়সী ব্যক্তি। এই নিয়ে এই সংঘর্ষের জেরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার পূর্ব খাসি পাহাড় জেলারই ইছামতি এলাকায় এবং শনিবার শিলং-এর লেউদুহ মার্কেটে দুটি পৃথক হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরই শনিবার রাত ৯ টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ইছামতি-তে সমাবেশ চলাকালীন খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ) ও অ-উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্র সংগঠনটির এক কর্মীর মৃত্যু হয়। আর শনিবার রাতে শিলং-এ মেঘালয় বেসিন ডেভলপমেন্ট অথরিটির এক কর্মচারীকে আচমকা হামলায় হত্যা করা হয়। এই তিন মৃত্যুর পর থেকে রাজ্যে তীব্র উত্তেজনার পরিবেশ রয়েছে।  

আরও পড়ুন - একই নালা থেকে উদ্ধার আরও দুই নিথর দেহ, দিল্লি কাণ্ডে বেড়েই চলেছে মৃত্যুমিছিল

পূর্ব খাসি পাহাড়-এর জেলাশাসক আশঙ্কা করছেন যে কোনও সময়ে শান্তি ও স্থিতাবস্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যাতে বহু মানুষের মৃত্য়ু ও সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। তার জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন গুজব রোধ করতে খাসি ও জয়ন্তি পাহাড় অঞ্চলের ছয়টি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার ইছামতি-তে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) বাস্তবায়নের দাবিতে একটি সমাবেশে কেএসইউ সদস্য ও অ-উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা থেকেই রাজ্যে এই হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ ওইদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন - নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিতর্কিত টুইট, ছুটিতে পাঠানো হল রাজ্য়পালকে

শনিবার ক্যান্টনমেন্ট বিট হাউজের আইওদুহ বাজারে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়, এসময় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা আক্রমণাত্মক হামলায় নেমে যায় এবং আরও সাতজনকে গুরুতর আহত করে বলে জানিয়েছে এসপি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন - কার্ফুর গ্রাসে উত্তর-পূর্বের আরেক রাজ্য, বন্ধ ইন্টারনেট, উড়ান মিস মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যপাল তথাগতা রায় এবং মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা নাগরিকদের শান্তি বজায় রাখার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেদন করেছেন। তবে উপদ্রুত এলাকাগুলিতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায়, সেই আবেদন কতজন দেখতে পাবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবারের সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য দুই লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।

এদিকে, এই ঘটনায় আটকে পড়েছেন রাজ্যে রাজ্যে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। তাদের জন্য পুলিশ বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০ ৩৪৫ ৩৮৪৬) চালু করেছে।এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬ জন পর্যটককে শিলং থেকে গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।