২০২০ সালে দেশে একের পর এক বিপদ যেন লেগেই রয়েছে। এমনিতেই করোনার হানায় স্বাপাবিক জীবন বিপর্যস্ত। তারমধ্যে দেশের পূর্ব উপকূল কয়েকদিন আগেই দেখেছে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব। এবার পশ্চিম উপকূলে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। তার মধ্যে রাজধানী দিল্লি সহ উভর ভারত মাঝেমধ্যেই কেঁপে উঠছে ভূমিকম্পে। এরমাঝেই উত্তরভারত জুড়ে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। তারসঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসাবে রয়েছে উত্তর ও মধ্য ভারতে পঙ্গপালের হানা। এবার দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত স্বাক্ষী থাকল ভয়ঙ্কর ভূমিধসের।

আরও পড়ুন: দেশের নাম পরিবর্তনের শুরুতেই ধাক্কা, সুপ্রিম কোর্টে প্রথম দিনেই স্থগিত হয়ে গেল শুনানি

ভয়ঙ্কর ভূমিধস দেখল অসমবাসী। মাটি চাপা পড়ে দক্ষিণ অসমে মৃত্যু হল কমপক্ষে ২০ জনের। গোটা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতরা সকলেই বরাক উপত্যকার ৩ জেলার বাসিন্দা। এদিতে দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকায় মূলত বাঙালিরাই বাস করেন। 

গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রচণ্ড বৃষ্টির ফলেই এই ভয়ানক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন কাছার জেলার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে। বাকিদের মধ্যে ৭ জন হাইলাকান্দি জেলার এবং ৬ জন করিমগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। ভূমিধসের কবলে পড়ে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। কাদার নীচে আরও অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

আরও পড়ুন: ২ লক্ষের দোড়গোড়ায় দেশের করোনা আক্রান্ত, পরপর ৩ দিন দৈনিক সংক্রমণ ৮ হাজার ছাড়াল

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। জোরকদমে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। এমনিতেই মারাত্মক ব্যানয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে অসম। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গোয়ালপাড়া জেলায়। তারপরেই রয়েছে নাগাঁও ও হোজাই জেলা। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে ইতিমধ্যে ২৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে এই বন্যায়। ডুবে গিয়েছে ৩৪৮টি গ্রাম।  ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন রাজ্যের প্রায় পৌনে চার লক্ষ মানুষ। তার মধ্যে আকস্মিক এই দুর্যোগ। গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।