করোনাভাইরাসের মত মহামারির সঙ্গে লড়াই করতে অনেক অনেক সাহায্য করেছে উন্নত মোবাইল প্র।যুক্তি। মহামারির সময় যখন বিশ্ব লকডাইনের রাস্তায় হেঁটেছিল তখন মোবাইল ফোনের মাধ্যেই যোগাযোগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল মোবাইল। ভিন্ন শহরের বাসিন্দা দুটি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি স্কুল কলেজ বন্ধ থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ওই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 


মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রী মোদী ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেস ২০২০তে উদ্বোধনী ভাষণ দেন। তিনি বলেন, মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্যেই মহামারির এই সময় ক্যাসলেস লেনদেন সাহায্য করেছিল। টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে ভারত অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ফাইবার অপটিক্যাল কানেকশনের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা উন্ননতমানে মোবাইল পরিষেবা পাবেন। তিনি আরও বলেন আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত গ্রামে হাইস্পিড মোবাইল পরিষেবা দেওয়া হয়েছ। তিনি আরও বলেন মোবাইল বর্জ্যের উপযুক্ত ব্যহারের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। গোটা বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার জন্য খুব তাড়াতাড়ি দেশে ৫জি পরিষেবা চালু করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  এদিন মোবাইল শিল্পকে কেন্দ্র করে আত্মনির্ভর ভারত গঠনের কথাও বলেন। তিনি বলেন  মোবাইল প্রযুক্তি, নকসা, উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। আগামী দিনে ভারতে যাতে গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম হাবে পরিণত হয়ে সেদিকে জোর দিতে হবে। আর সেই বিষয়ে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন দেশের অনেক তরুণ প্রযুক্তিবিদ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন লগ্নিকারীরা এই দেশে টেলিকমিউনিকেশন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী রয়েছে। 

গতকাল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমান এই অনুষ্ঠানটি আত্মনির্ভর ভারত গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করার জন্য উৎহিত করার পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও উদীয়মান প্রযুক্তি গবেষণাখাতে উৎসহ দেবে। একই সঙ্গে উন্নয়নের দিকেও এগিয়ে যাবে। আইএমসি ২০২০ আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রক অংশ নেবে। টেলিকমিউনিকেশন সিইও, গ্লোবাল সিইও, ৫জি বিশেষজ্ঞ, ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ ও আর্টিফিশিয়াল বিশেষজ্ঞ সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে ভারতকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আগামী দুদিন ধরে চলবে এই অনুষ্ঠান।