প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাকার্তায় পৌঁছেছেন। ৬ থেকে ৮ জুলাই এই সফরে তাঁর মূল লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা। প্রতিরক্ষা, সমুদ্র সুরক্ষা, বাণিজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ—এই বিষয়গুলিই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার তাঁকে জমকালো অনুষ্ঠানে স্বাগত জানানো হয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোই এই সরকারি সফরের মূল লক্ষ্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোমবারই প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ায় পা রাখেন। তাঁর তিন-দেশ সফরের এটি প্রথম পর্যায়। ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার পরেই প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে যায় সেদেশের বায়ুসেনার ফাইটার জেট। বিমানবন্দরে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। সেখানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট প্রবোও-র ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত এই সফর চলবে। এটি মোদীর চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া সফর হলেও, ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে 'কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ' চুক্তি হওয়ার পর এটাই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য

আশা করা হচ্ছে, এই উচ্চ-পর্যায়ের সফরের ফলে দুই দেশের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি আসবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে পারস্পরিক সহযোগিতা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নয়াদিল্লি ও জাকার্তার মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্পর্ক বেশ মজবুত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং ইন্দোনেশিয়ার কাছে ভারতের ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বিক্রি।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা

এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ভারতের 'MAHASAGAR' (মিউচুয়াল অ্যান্ড হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিওরিটি অ্যাক্রস দ্য রিজিয়নস) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রসারে জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেছেন, "ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি', 'MAHASAGAR' ভিশন এবং একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।"

ইন্দোনেশিয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন।

প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা काफी আশাবাদী। তাঁদের আশা, এই সফরের ফলে খনি, পরিকাঠামো, শক্তি এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দরজা খুলবে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও দেখা করবেন।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র

প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রেসিডেন্ট প্রবোও-র সঙ্গে যোগজাকার্তার প্রাম্বানান মন্দির পরিদর্শনে যাবেন। এটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। মোদীর মতে, এই মন্দির দুই দেশের প্রাচীন সভ্যতার যোগসূত্রের এক জীবন্ত প্রতীক।

বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বেশ মজবুত। আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৩০টিরও বেশি ভারতীয় সংস্থা ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে।

নজরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ

এবারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ পাওয়ার বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে। বিশ্বের মোট নিকেল ভান্ডারের প্রায় ২১ শতাংশ রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। এছাড়া বক্সাইট, তামা এবং টিনের অন্যতম প্রধান উৎপাদক এই দেশটি। তাই ভারতের সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত রাখতে এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের রাস্তা আরও মজবুত করা।