সার্স-কোভ-২ বা নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে এখন অবিরাম গবেষণার কাজ চলছে। ভাইরাসটির একটি নিরাময়ক বা টিকা তৈরির কাজের পাশাপাশি গবেষণা চলছে এর সংক্রমণের প্রকারভেদ, জিনগত উৎস এবং জিন পরিবর্তন নিয়েও। আর তাতেই উঠে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। প্রাথমিকভাবে ভারতের যে সমস্ত করোনা রোগী পাওয়া গিয়েছিল তাঁদের বেশিরভাগই চিন থেকে ভারতে ফিরেছিলেন। ভারতে করোনাভাইরাসের যে রূপভেদটি ছড়াচ্ছিল, তার সঙ্গে চিনের রুপভেদেরই সবচেয়ে বেশি নিল ছিল। কিন্তু, নয়া গবেষণা বলছে চিন নয়, ভারতে করোনাভাইরাস বেশি ছড়িয়েছে অন্য এক দেশ থেকে।

শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আওতাধীন বায়োটেকনোলজি বিভাগের কর্তারা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার হর্ষ বর্ধন-এর সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তাঁরা জানান, তাঁদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ভারতের করোনার স্ট্রেইন-এর বেশিরভাগই এসেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। এরপরই রয়েছে সৌদি আরব থেকে আসা করোনা স্ট্রেইন। চিন থেকে আসা করোনা স্ট্রেইন এখন ভারতের খুব কম জায়গাতেই রয়েছে।

শনিবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাক্তার হর্ষ বর্ধন সার্স-কোভ -২ এর প্রথম সারা-ভারত ১০০০ জিনোম সিকোয়েন্সিংয় কর্মসূচির কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে সমাপ্তির ঘোষণা করেছেন। বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সার্স-কোভ -২ এর ডি১৬৪জি নামে চিহ্নিত জিন-রূপটির সংক্রামক ক্ষমতা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। দিল্লিতে করোনাভাইরাস-এর এই রূপটিই বেশি রয়েছে। এই কারণেই গত কয়েকদিন ধরে ধীরে ধীরে রাজধানীতে করোনার সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির সূচনাটা শুরু হয়েছিল চিনের উহান শহর থেকে। কিন্তু তারপর থেকে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে তার জিনগত পরিবর্তন এসেছে। কোনও কোনও স্ট্রেইন হয়ে উঠেছে মানুষের পক্ষে বেশি মারাত্মক, আবার কোনও ভাইরাস স্ট্রেইন-এ মৃত্যুর হার কম। কেউ কম ছড়াতে পারে, কারোর সংক্রামিত হওয়ার ক্ষমতা বেশি।