সিএএ নিয়ে ফের একবার সরব হলেন সাংসদ, শিল্পপতি এবং মিডিয়া ব্যারন রাজীব চন্দ্রশেখর। পাকিস্তান এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে অত্যাচারের শিকার হওয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য এই আইন-এর অস্তিত্ব থাকাটা যে দরকার তাও যুক্তি সহকারে তুলে ধরেছেন তিনি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি তুলে ধরেছেন পাকিস্তান নিয়ে লেখা একটি বই এবং সেখানে ঘটে যাওয়া নৃশংস এক হত্যাকান্ডের কথাও। যে ঘটনায় খুন হয়েছিলেন পাকিস্তানের খোদ এক উদারপন্থী মুসলিম মন্ত্রী।

আরও পড়ুন- চিকিৎসক থেকে সাঁতার প্রশিক্ষক, হিন্দু উদ্বাস্তুদের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন সকলে

রাজীব চন্দ্রশেখর লিখছেন- ''একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অবশ্যই এই সময়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে। সিএএ যা নাগরকিত্ব সংশোধনী আইন তা অবশ্যই দেশবিভাগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নানা ঘটনার প্রেক্ষিতেই আজ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ১৯৫০ সালের কিছু আগে ভারত ও পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা কি ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে তা জওহরলাল নেহরু এবং লিয়াকত আলির দেওয়া বয়ান থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ভারত যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগরিষ্টদের সমানাধিকার অর্পণ করেছিল, ঠিক তখনই পাকিস্তান নিয়েছিল উল্টো রাস্তা। দেশবিভাগের পরও সেখানে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের পাকিস্তান দিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদা। এই প্রসঙ্গে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ দলিল হল পাকিস্তানের উপরে লেখা জেফারলটের বইটি। এমনকী যেভাবে পাকিস্তানে উদারপন্থী মন্ত্রীদের নির্মম অত্যাচারের সম্মুখিন হতে হয়েছিল তা একটা প্রামাণ্য দলিল হয়ে রয়েছে। খিস্ট্রান মহিলা আসাইয়া নুরিন যিনি আইসা বিবি নামেই পরিচিত তাঁকে যেভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল সেই কাহিনি সারা বিশ্বের কাছে সুবিদিত। বেরিজ রোপন করার সময় সহকর্মীর সঙ্গে বচসার জন্য আইসা বিবি-কে প্রায় এক দশক ধরে জেলে পচতে হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ধর্ম বিরোধী হওয়ার অভিযোগ লাগু করা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, উদার মনস্ক রাজনীতিবিদ এবং শিল্পপতি হিসাবে পরিচিত সলমন তাসিরকে খুন হতে হয়েছিল।  এই সব ঘটনা প্রমাণ করে এশিয়ায় পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে। যদিও, ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়াটা মনমোহন সিং-এর মতো পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রে আটকায়নি। বিংশ শতকের অটোমেটিক সিটিজেনশিপ-এ মনমোহন সিং-রা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছেন। জওহরলাল নেহরু এবং লিয়াকত আলিরা কখনও-ই ভারতের বসবাসকারী হিন্দু এবং পাকিস্তানে বসবাসকারী মুসলিমদের কথা বলেননি। তথাপি ভারতে এমন একটা প্রক্রিয়া বরাবরই অনুসৃত হয়ে এসেছে যার দ্বারা রাজনৈতিক উদ্বাস্তুরা সে তারা যে কোনও জনজাতির-ই হোন না কেন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তবে এর জন্য একটা বিশেষ প্রক্রিয়া রয়েছে যা তাদেরকে অনুসরণ করতে হয়েছে। আমাদের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। সেখান থেকে দেখতে গেলে পাকিস্তানের সংবিধানটা পুরোপুরি থিওক্যাসি বা ভগবান-প্রজার সংজ্ঞার উপরে দাঁড়িয়ে। এটাও যেমন একটা সত্যি। তেমনি এটাও সত্যি যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে আঘাত হানাটা সেখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। যা কর্তারপুরে গুরুদ্বারে হামলা ফের প্রমাণ করল। "

এই বয়ানটি ছাড়াও, রাজীব চন্দ্রশেখর একটি টুইটও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এই ভিডিও-তে সিএএ নিয়ে বিস্তারিত আকারে ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেখিয়েছেন কীভাবে সিএএ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর একটা চেষ্টা চলছে। যদিও, এই গুজবের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ারই শপথ নিয়েছেন রাজীব চন্দ্রশেখর। 

 

আরও পড়ুন- অপহরণ থেকে খুন, জানুন পাকিস্তান-বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে হওয়া অত্যাচারের কাহিনি