মোদী সরকারের শিল্পনীতি সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন রাহুল বাজাজ। কংগ্রেসের অতি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাহুল বাজাজ-কে নিয়ে বিতর্ক কম নেই। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই রাহুল বাজাজের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবসার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করলেও কোনওদিনই সরকারি নীতি পালনের ধার ধারেননি বলেই অভিযোগ ছিল। এহেন বাজাজ যেভাবে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তাতে শিল্পমহলেই জোর বিতর্ক ছিল। বহু মানুষই বাজাজের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ মেলাতে না মেলাতেই এবার মোদী সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে সরব হয়েছেন শিল্পপতি কুমারমঙ্গলম বিড়লা। এমনকী তিনি রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন এভাবে চলতে থাকলে ভোডাফোন-আইডিয়া-র মতো টেলিকম সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও গতি থাকবে না। 

আরও পড়ুন- আমর্ড ফোর্স ডে-তে আর সি-র বার্তা, ঘরে ঘরে উত্তোলিত হোক জাতীয় পতাকা

মোদী সরকারেরর শিল্পনীতি নিয়ে রাহুল বাজাজ এবং কুমারমঙ্গলম বিড়লা মুখ খুলেছেন তেমনি এঁদের মতের বিরুদ্ধেই মত পোষণ করেছেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। শুক্রবারই তিনি জানিয়েছেন, মোদী সরকার যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তা আগে কখনও হয়নি। শুধু সঞ্জীব নন, ফের একবার মোদী বিরোধী শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখরও। তিনি কুমারমঙ্গলম বিড়লার অবস্থানকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলেই মন্তব্য করেছেন। এই নিয়ে টুইটও করেছেন রাজীব। বিজেপি সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর তাঁর টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, 'সরকারের উপরে এই ধরনের উদ্দেশ্য প্রণোদিত চাপ তৈরিতে আমার কাছে অতি সহজ একটা সমাধান রয়েছে। আর তা হল আমেরিকার ট্র্যাপ-এর মতো এদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যেমন এলআইসি, আইআইএফ-কে দিয়ে ভোডাফোন-আইডিয়ার শেয়ার কিনে নেওয়া এবং পরে গ্লোবাল অকশন ডেকে কোনও বড় গ্লোবাল টেক কোম্পানি-র কাছে এটাকে বিক্রি করে দেওয়া।' 

 

রাজীব-এর এই টুইট বার্তায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভোডাফোন-আইডিয়া। রাহুল বাজাজ-ও যখন মোদী সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তখনও মুখ খুলেছিলেন রাজীব। সাফ জানিয়েছিলেন, কংগ্রেস আমলে শিল্পপতি-রা যে ভাবে জনবিরোধী শিল্পনীতি তৈরির জন্য সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে পারতেন, তেমনটা তারা পারছেন না নরেন্দ্র মোদীর জামানায়। ইউপিএ-এর আমলে রাহুল বাজাজ-দের মতো শিল্পপতিরা শিল্পের নীতি-নির্ধারণকেও যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন রাজীব। বিজেপি সাংসদ যে ভুল কিছু বলেননি তা প্রমাণ হয়ে যায় সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মতো শিল্পপতি শুক্রবার এই নিয়ে কথা বলায়। স্পষ্টতই মোদী সরকারের পাশে শুধু দাঁড়ানো-ই নয় শিল্প নীতি-রও যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন সঞ্জীব। 

আরও পড়ুন- 'ওইসব' আর চলবে না, মোদীর দিকে ঢিল ছুড়ে পাটকেল খেলেন বাজাজ

ভারতীয় শিল্পের প্রথম থেকেই বড় সমস্যা ছিল আর অ্যান্ড ডি। কেন্দ্রে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও সেভাবে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট-এ কোনওভাবেই উদ্যোগী হয়নি বেশিরভাগ শিল্পসংস্থা। ইউপিএ ২-এ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সে সময় বাজেটে তিনি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট-কে শিল্পনীতির আওতায় ঢুকিয়েছিলেন। তবু, কোনও সংস্থাই তাতে সে ভাবে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলেই অভিযোগ। চিন যেখানে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টকে ভিত্তি করে শিল্পকে কটেজ ইন্ডাস্ট্রি-তে রূপান্তর করে ফেলেছে সেখানে ভারত পরে রয়েছে পুরনো জায়গাতেই। এসব-ই সম্ভব হয়েছিল ইউপিএ-এর সরকারের জন্য। কারণ তারা সেভাবে শিল্পসংস্থারগুলোর উপর চাপ তৈরি করতে পারেনি। উল্টে বেশকিছু শিল্পপতি সমানে সরকারের উপর চাপ তৈরি করে নিজেদের মুনাফা-র অঙ্ক-ই বাড়িয়ে গিয়েছিল। আগামীদিনগুলো-তে মোদী সরকারের জনদরদি শিল্পনীতির বিরোধিতায় আরও কিছু শিল্পপতি মুনাফা খোয়ানোর ভয়ে সরব হতে পারেন বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।