দেশের মধ্যে করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। ইতিমধ্যে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমণের শিকার হয়েছে ২,৫৫৩ জন। পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে তা বুঝে উঠতে পারছে না প্রশাসন। ইতিমধ্যে সোমবারই করোনা সংক্রমণে চিনকে ছাপিয়ে চলে গিয়েছে মহারাষ্ট্র। আর মরাঠা রাজ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি রাজধানী মুম্বইয়ের। আর মুম্বইয়ের এই করোনা যুদ্ধে এখন আশার আলো দেখাচ্ছে ধারাভি বস্তি।

দেশের প্রথম মেট্রো শহর হিসাবে মুম্বইতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ১,৩১১ জন। করোনার উৎসংস্থল চিনের উহানে এখনও পর্যন্ত সংক্রমণের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩৪০। সেখানে কেবল মুম্বইতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৫০ হাজার ৮৫তে। খুব শীঘ্রই মোট আক্রান্তের সংখ্যায় মুম্বই উহানকে ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইতে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের। আর মহারাষ্ট্রে সংখ্যা ১০৯। দেশের বাণিজ্য রাজধানীর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আশা জাগাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি ধারাভি-ওরলি।

অ্যাসিম্পটম্যাটিকদের থেকে করোনা ছড়ানোর নজির বিরল, সুর পাল্টে এবার দাবি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

দেশে দৈনিক সংক্রমণে ফের রেকর্ড, এবার করোনার উৎসস্থল উহানকে একাই ছুঁয়ে ফেলতে চলল মুম্বই

ইউরোপ ছাড়া বাকি বিশ্বের পরিস্থিতি উদ্বেগের, এবার করোনার মূল কেন্দ্র হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভিতে ১০ লক্ষ মানুষের বাস হলেও গত ৯ দিনে এখানে করোনা সংক্রমণে এক জনেরও মৃত্যু হয়নি। বরং ২৪ ঘণ্টায় এই এলাকায় মাত্র ১২ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। বরং আশার কথা ধারাভিতে ১৯২৪ জনের শরীরে কোভিড ১৯ রোগ বাসা বাঁধলেও ইতিমধ্যে ৯৩৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

অথচ একসময় ধারাভি-ওরলির মত বস্তি এলাকাগুলিতে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা ছিল। অথচ করোনা সংক্রমণে নাজেহাল মহারাষ্ট্রে এখানে ধারাভিতেও সুস্থতার হার সকলের নজর কাড়ছে। 

মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের ২টি হসস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ধারাভি  ও ওরলিকে। সেখানেই পরিস্থিতির বদল ঘটছে। বৃহন্মুম্বই পুরসভার রিপোর্ট বলছে, গত এক সপ্তাহে ঘনবসতিপূর্ণ ধারাভিতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে ওরলিতেও। যেখানে দেশে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা সেখানে ধারাভি-ওরলি হাঁটছে বিপরীত দিকে। এই বসতিগুলিতে বাড়ছে সুস্থতার হারও। মে মাসে ওরলিতে ক্রমেই বাড়ছিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের শরীরে মিলছিল মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি। চলতি মাসের শুরুতেই সেই ছবি পরিবর্তিত হয়। সংক্রমণের মাত্রা গড়ে ৬০ থেকে কমে ৩৫-এ নেমে আসে। ধারাভিতেও সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কমেছে। ওরলি এবং ধারাভিতে এখন সংক্রমণ বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১.৯% ও ১.৭%।

ধারাভির এই সাফল্য নিয়ে ট্যুইট করেছেন মাহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান তথা ভারতের অন্যতম শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা। ধারাভি জিতলে ভারত জিতবে। ট্যুইট করেন আনন্দ।

 

 

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মহারাষ্ট্রে যেখানে লাগামছাড়া ভাবে বাড়ছে সংক্রমণ সেখানে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তিতে কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করা গেল। বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের তথ্য জানাচ্ছে, এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছিল ধারাভি ও ওরলিতে। খুব কম দিনে বেশি সংখ্যক মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছিলেন। তারপরেই কীভাবে সাফল্য মিলল সেই রহস্য ফাঁস করলেন বিএমসি-র জি নর্থ ওয়ার্ডের সহকারী মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিরণ দিগভকর। তিনি জানান,   ওই এলাকায় একাধিক ‘ফিভার ক্লিনিক’ খোলা হয়েছে । সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেও সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট হচ্ছে । প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । এছাড়াও মাস টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে । আর তার ফলও মিলছে হাতে নাতে। এই দুই এলাকায় সুস্থতার হারও বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে