করোনাভাইরাস মহামারির দাপটে ইতিমধ্যেই ছাড়খাড় অবস্থা দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই-এর। তারমধ্যেই হতে পারে একটি বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলা। বাণিজ্যনগরীতে উচ্চ সতর্কতা জারি করল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তবে আজমল কাসভদের মতো পণবন্দী কায়দায় নয়, এবার মুম্বইয়ে হামলা হতে পারে আকাশপথে, এমনটাই জানা গিয়েছে।

হামলা এবার আকাশপথে

গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি, ড্রোন, রিমোট কন্ট্রোল মাইক্রো-লাইট বিমান, এরিয়াল মিসাইল বা প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে মুম্বইয়ে হামলা চালাতে পারে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। উত্সবের মরসুমেই হয়তো মুম্বই শহরকে নিশানা করা হবে। পরের একমাসের মধ্যেই এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, শহরের ভিভিআইপি-দের বাসস্থান নিশানা করতে পারে জঙ্গিরা।

উৎসবের মুম্বই জঙ্গিদের 'সফট টার্গেট'

প্রতিবছরই উত্সবের সময় মুম্বই শহরে ভ্রমণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত বাজার এলাকা, দর্শনীয় স্থানগুলি জনাকীর্ণ হয়ে থাকে। উত্সবের সময় ভিড়ে-ভিড়াক্কার এই জায়গাগুলি সন্ত্রাসবাদীদের 'সফট টার্গেট' হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ ও প্রশাসন। তাই গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার তথ্য পাওয়ার পরই বাজার অঞ্চল এবং অন্যান্য জনাকীর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা এইসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন। চলছে পুলিশের টহলদারিও।

আকাশে নিষেধাজ্ঞা

সেইসঙ্গে গোটা মুম্বই শহরে আগামী প্রায় একমাসের জন্য ড্রোন, হালকা বিমান, প্যারাগ্লাইডারগুলির ওড়াউড়ি নিষেদ্ধ করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই বিধিনিষেধ।

দ্বিতীয় হুমকি

উল্লেখ্য এই নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয়বার মুম্বই নগরীকে সন্ত্রাসবাদী হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হল। এর আগে, গত জুন মাসে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফোনে তাজ গোষ্ঠীর হোটেলে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হামলার পুনরাবৃত্তি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফোনটি পাকিস্তান থেকেই করা হচ্ছে, বলে দাবি করা হয়েছিল।