নাম মাডি শর্মা। আর তাঁকে নিয়েই এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে ২৩ জন সাংসদ কাশ্মীর সফরে এসেছেন, তার গোটাটাই নাকি আয়োজন করেছেন একটি এনজিও-র কর্ণধার মাডি শর্মা। শুধু কাশ্মীর সফরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনাই নয়, পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো সফররত বিদেশি সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাতও করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি উপ রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন ওই বিদেশি সাংসদরা। তাঁদের জন্য  বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও করেছিল বিদেশমন্ত্রক।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কে এই মাডি শর্মা? কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তরে তাঁর এত প্রভাবই বা থাকে কী করে যে আগাম প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বিদেশি সাংসদেদর এনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিলেন? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশি সাংসদদের সাক্ষাতের পরে যে ছবি তোলা হয়েছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে এই মাডি শর্মাকে। ম্যাডি শর্মার টুইটার প্রোফাইল অনুযায়ী, উমেন্স ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বা ডব্লিউইএসটিটি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান তিনি। যদিও, এই সফর নিয়ে জানার জন্য একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে মাডি শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

বিদেশি সাংসদদের এই সফর ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই সফরের কোনও খরচই ভারত সরকার বহন করছে না। মাডি শর্মার পক্ষ থেকে সফররত সাংসদদের যে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল, সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছিল, সফরের সব খরচ দিল্লির আইআইএনএস নামে একটি সংস্থা। মাডি শর্মার সংস্থা সফররত সাংসদদের তিন দিনের কাশ্মীর সফরের যে আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছিল, সেই আমন্ত্রণ পত্র হাতে পায় একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্র। কিন্তু ওই সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে সেই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিদেশি সাংসদদের সফর নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি। 

প্রশ্ন উঠছে, বার বার যেখানে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার শাখার প্রতিনিধি দলকেও যেখানে কাশ্মীর আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেখানে হঠাৎ বিদেশি এই প্রতিনিধি দলকে  কেন কাশ্মীর সফরের অনুমতি দেওয়া হল?

এ ছাড়াও আরও একটি তথ্যে বিদেশি সাংসদদের এই সফরের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের দুই লিবারাল ডেমোক্র্যাট পার্টির দুই সাংসদ অভিযোগ করেছেন, প্রথমে এই সফরে আসার জন্য তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানালেও পরে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ক্রিস ডেভিস এবং ইরিনা ভন নামে ওই সাংসদ জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁদেরকেও ভারত সফরে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মাডি শর্মা। মাডির সঙ্গে তাঁদের ব্রাসেলসে অক্টোবরের দশ তারিখে বৈঠক হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে বলে জানানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রিস ডাভিস নামে ওই সাংসদ অভিযোগ করেন, কাশ্মীরে গিয়ে তিনি স্বাধীনভাবে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। এই সফরে আসার জন্য এই শর্তিই মাডিকে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কোনও নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাংবাদিকদের রাখতে চেয়েছিলেন ডেভিস। যদিও এর জবাবে মাডি তাঁকে জানান, কিছুটা নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকলে তাঁদের কাজে কোনও অসুবিধা হবে না। এখানেও প্রশ্ন উঠছে, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও কীসের ভিত্তিতে সাংসদদের নিরাপত্তার আয়োজনের গ্যারান্টি আগাম দিয়ে দিলেন মাডি?