সেটা ছিল ১৭ জুন। মণিপুরে দেখা গিয়েছিল রিভার্স অপারেশন কমল। বিজেপি বিধায়করা পদত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, জোটসঙ্গীদেরও অনেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য বেশ কয়েকটি রাজ্যের মতো মণিপুরেও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের জন্য কাপ আর ঠোঁটের মধ্যে ফারাকটা রয়েই গেল।

সোমবার মণিপুরে এন বীরেন সিং-এর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্য বিধানসভায় ২৮-১৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে আস্থাভোটে জয়লাভ করল। এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে সারাদিন ম্যারাথন বিতর্ক চলে। দিনের শেষে পদ্মই ফুটল। কংগ্রেসের আট জন বিধায়ক দলীয় হুইপ অস্বীকার করে আস্থাভোটে অংশই নেননি। পরে ওই বিধায়করা বিধানসভার স্পিকারের কাছে তাঁদের তাদের পদত্যাগপত্রও জমা দিয়েছেন।

৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় আগেই বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ৭ কংগ্রেস বিধায়ক। তাতে সভার বর্তমান কার্যকরি শক্তি দাঁড়িয়েছিল ৫৩-তে। এর মধ্যে কংগ্রেসের হাতে ছিল ২৪ জন বিধায়ক। তাই দিয়ে বিজেপিকে রোখা যেত না। এদিন আটজন না আসায় আরওই কমে কংগ্রেসের আশা। তবে এর পিছনে কোনও অপারেশন কমল নেই বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর। তিনি বলেছেন, সব কিছু হয়েছে নিয়ম মেনে। ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে হয় আস্থাভোট। বিরোধী বিধায়করা কম এসেছেন, তা দায় বিজেপির নয়।

পরে কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং বলেছেন, মণিপুরে কোনও আইনের শাসন নেই। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা ডিভিশন অব ভোটের দাবি জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ হ্যাঁ-এর পক্ষে কোন দল কয়টি ভোট দিয়েছে, না-এর পক্ষেই বা কারা কটি ভোট দিয়েছে তা বিচার করার দাবি তুলেছিলেন। কংগ্রেসের সমস্ত বিধায়কদের সেই দাবি করলেও স্পিকার তার অনুমতি দেননি বলে অভিযোগ করেছেন মণিপুরের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি ক্ষমতাসীন জোটের মধ্য়েই অনেকে এই সরকারকে পছন্দ করে না।

এর আগে জুন মাসে একসঙ্গে তিনজন বিজেপি বিধায়ক দল থেকে পদত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তার উপর ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চার বিধায়ক সহ জোটসঙ্গীদের ছয়জন বিধায়ক সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল বিজেপি সরকারের উপর থেকে। কিন্তু, তারপরও কংগ্রেস রিভার্স অপারেশন কমল-এ সফল হল না।