যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই ভারতে প্রবেশ করেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, সেখানে মানুষের টিকা নেওয়ার প্রতি প্রবল অনীহা দেখে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্বাস্থ্য মহল।

টানা ২ বছরের মহামারী কাটিয়েও বিদায় নেয়নি করোনা। ২০২২-এর শেষ থেকে বিশ্বের বহু দেশে আবার আতঙ্ক ছড়িয়েছে মারণ ভাইরাস। চিন থেকে ক্রমেই অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। ভারতে এখনও পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর না হলেও পূর্বতন মহামারী পর্যবেক্ষণ করে ২০২৩-এ আগেভাগেই সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। এই আবহে এবার দেশের নাগরিকদের দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে কিনা, সেবিষয়ে আলোচনায় বসলেন টিকাকরণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ভারতীয় মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে একাধিক চিকিৎসক এবং আইএমএ সদস্যরা কোভিডের দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ, অর্থাৎ চতুর্থ কোভিড টিকা চালু করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।

সমস্যা হল, দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনও প্রথম বুস্টার ডোজ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে ভারত। নাগরিকদের একটা বিরাট অংশের মধ্যে কোভিড টিকা নেওয়ার অনীহাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতে মাত্র ২৮ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক কোভিড প্রতিরোধক বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। এই আবহে এনটিএজিআই সদস্যদের বক্তব্য, 'টেকনিক্যাল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে দ্বিতীয় বুস্টার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁরা কোনও সুপারিশ করার আগে সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।'

এখনও পর্যন্ত করোনা টিকা নিয়ে সামগ্রিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনা টিকার বুস্টার দেওয়ার পর ৬ মাস পর্যন্ত শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকে। কিন্তু, ৬ মাস পেরিয়ে গেলেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। তবে, চতুর্থ টিকা দেওয়া হলে সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফের বেড়ে যাবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, দেশের ৯৪ কোটি প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে প্রায় ৭২ কোটি মানুষ এখনও বুস্টার ডোজ নেননি। আরেকদিকে ৭.৫ কোটি মানুষ এখনও করোনার দ্বিতীয় ডোজই নেননি। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই ভারতে প্রবেশ করেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, সেখানে মানুষের রোগ প্রতিরোধের প্রতি এতও অনীহা দেখে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্বাস্থ্য মহল।

আরও পড়ুন-

ব্রিটেনে ‘স্যার’ উপাধিতে ভূষিত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলোক শর্মা, নাইটহুড দিলেন রাজা তৃতীয় চালর্স
‘ভুতের ভর’ ছাড়াতে হবে: এই বলে উত্তরপ্রদেশে ১৪ বছরের কিশোরীকে পৈশাচিক ধর্ষণ, গ্রেফতার ১ তান্ত্রিক
জানুয়ারি মাসেই প্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি, কী লিখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?