- Home
- India News
- Nepal Foods Affect India: সীমান্ত পেরিয়ে ধেয়ে আসছে জল! নেপালের বন্যায় কাঁপছে ভারত, জারি লাল সতর্কতা!
Nepal Foods Affect India: সীমান্ত পেরিয়ে ধেয়ে আসছে জল! নেপালের বন্যায় কাঁপছে ভারত, জারি লাল সতর্কতা!
Nepal Foods Affect India: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ। এর সরাসরি প্রভাবে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

হড়পা বানে নেপালে নিখোঁজ বহু মানুষ
Nepal Foods Affect India: হড়পা বানে নেপালে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য জেলা রাসুয়া (Rasuwa)। নেপালের এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই তিন রাজ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই তিন রাজ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিচু এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং উত্তরাখণ্ডে নদীগুলোর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্লাবনের আশঙ্কায় কোটি কোটি মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হিমালয় অঞ্চলে ১,০১৫টি বন্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে
ভূমিকম্প বা হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা (GLOF)-এর মতো বিভিন্ন কারণে হিমালয়ের নদীগুলোতে আকস্মিক বন্যা হওয়া অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (ICIMOD)-এর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে নেপাল, ভারত ও চিন জুড়ে হিমালয় অঞ্চলের উজান এলাকায় অন্তত ১,০১৫টি বন্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারের জলর স্তর বেড়ে যেতে পারে
ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে ঘটা এই আকস্মিক বন্যার ফলে নেপাল থেকে প্রবাহিত নদীগুলোর—যেমন উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারের কিছু অংশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া গণ্ডক নদীর—জলর স্তর বেড়ে যেতে পারে। তিব্বত থেকে উৎপন্ন ভটে কোশি নদীর অধিকাংশ জলধারা গ্রহণকারী ত্রিশূলী নদীটি শেষ পর্যন্ত গণ্ডক নদীতেই মিশেছে।
উত্তর প্রদেশের ঘর্ঘরা ও রাপ্তি নদী এবং বিহারের কোশি নদীতেও জলর প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে
ভারী বৃষ্টিপাত এবং নেপালের ব্যারেজগুলোর গেট খুলে দেওয়ার ফলে উত্তর প্রদেশের ঘর্ঘরা ও রাপ্তি নদী এবং বিহারের কোশি নদীতেও জলর প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। বিহার সরকার রাজ্যের পাঁচটি জেলায়—পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সুপৌল ও মুজাফফরপুর—নিচু ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে; কারণ সেখানে অতিরিক্ত হাজার হাজার কিউসেক জল আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
বিকেল ৫টায় বাল্মিকীনগর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ছিল ১,০৬,০০০ কিউসেক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে এই পরিমাণ বেড়ে ৩,০০,০০০ কিউসেকে পৌঁছাতে পারে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, বাল্মিকীনগর ব্যারেজের ৩৬টি গেটই (যার নকশাগত ধারণক্ষমতা ৮,৫০,০০০ কিউসেক) পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপালের নারায়ণী নদীর দেবঘাট গেজ পয়েন্টে জলর স্তর
পশ্চিম চম্পারণের ম্যাজিস্ট্রেট তারনজত সিং জানিয়েছেন, বাল্মিকীনগর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে নেপালের দেবঘাটে জলর স্তর বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের সব দলকে সক্রিয় করা হয়েছে। নেপালের নারায়ণী নদীর দেবঘাট গেজ পয়েন্টে জলর স্তর ছিল ৪.৭৭ মিটার—যা সতর্কতার স্তর (৭.৩০ মিটার) এবং বিপদসীমার (৯ মিটার) চেয়ে অনেক নিচে।
গণ্ডক নদীর জলর স্তর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
দিনভর ব্যারেজ দিয়ে জলর প্রবাহ বা ডিসচার্জ ক্রমাগত বেড়েছে; সকালে এটি ছিল প্রায় ৮৬,০০০ কিউসেক, যা বিকেল ৪টা নাগাদ বেড়ে প্রায় ১,৪৪,৮০০ কিউসেকে দাঁড়ায়। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, নেপালে বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে গণ্ডক নদীর জলর স্তর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান
পাটনায় চৌধুরী বলেন, "প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আমি বাল্মিকী নগরও পরিদর্শন করব।" জলসম্পদ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় জানান যে পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এনডিআরএফ জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত
দিনের পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উদ্ধারকাজ নিয়ে কথা বলছেন। কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন শাহ। ওই কর্মকর্তা জানান, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-এর দলগুলোকে মোতায়েন করা হচ্ছে।
এনডিআরএফ সক্রিয়
গোপালগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট সমীর সৌরভ জানান, গোপালগঞ্জের কাছে চাওয়াহিতে এনডিআরএফ-এর ৩০ সদস্যের একটি দল এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ)-এর একটি দল অবস্থান করছে; সেখান থেকে নিচু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিম চম্পারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
পশ্চিম চম্পারণের ম্যাজিস্ট্রেট তারনজত সিং জানান, নেপালের দেবঘাটে জলর স্তর বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের সব দলকে সক্রিয় করা হয়েছে। বাল্মিকী নগরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আনোয়ার বলেন, “আমরা আগামী পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে বাল্মিকী নগর ব্যারেজে প্রায় ৩,০০,০০০ কিউসেক জলর প্রবাহ আশা করছি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেটই পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হচ্ছে। খালের দিকে জল সরবরাহ ব্যাহত করা হচ্ছে।”
নেপাল সীমান্তবর্তী জেলায় সতর্কতা জারি
উত্তর প্রদেশ সরকার নেপাল সীমান্তবর্তী মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলায় সতর্কতা জারি করেছে। উত্তরাখণ্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, চামোলির মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

