ভারতে অ্যাফেয়ার ব্রেকআপ আইন: আপনিও যদি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেন, তাহলে সাবধান। আইন আপনার উপর নজর রাখবে এবং আপনাকে জেলে আপনার যৌবন কাটাতে হতে পারে। আসুন, এই আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

প্রেমের সম্পর্কে আইনি পদক্ষেপ: বিগত কিছুদিন ধরে বিয়ের অজুহাতে ছেলেরা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। অনেকদিন একসঙ্গে থাকার পর তারা সারাজীবন হাত ধরতে অস্বীকার করে, যার কারণে মেয়েরা নিজেদের প্রতারিত মনে করে। এই ধরনের ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন তৈরি করা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে ছেলের ১০ বছরের জেল হতে পারে।

যদি কোনো ব্যক্তি বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি (false promise to marry) দিয়ে কোনো মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তারপর তাকে ছেড়ে দেয়, তবে সে শাস্তির যোগ্য। নতুন ফৌজদারি আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৬৯ ধারার অধীনে এটিকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর অধীনে ১০ বছরের জেল এবং জরিমানা হতে পারে। তবে এই আইন শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য প্রযোজ্য। যদি কোনো মেয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেড়ে দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

কোন ধরনের প্রতারণায় শাস্তি হতে পারে

-একজন যুবক কোনো মেয়ের সঙ্গে ৩-৪ বছর ধরে সম্পর্কে ছিল এবং বারবার বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। পরে জানা গেল যে সে আগে থেকেই বিবাহিত ছিল বা অন্য কোথাও বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।

-কোনো মেয়েকে কেরিয়ার ছাড়তে, পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তারপর সম্পর্ক শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টি শুধু ব্রেকআপ নয়, মানসিক ও আবেগজনিত শোষণের মামলাও হতে পারে। এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সব ব্রেকআপই কি অপরাধ?

না। যদি সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিতে বা পারিবারিক কারণে ভেঙে যায়, তবে তা অপরাধ নয়। আইন কেবল সেখানেই হস্তক্ষেপ করে, যেখানে প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়।

আইনের উদ্দেশ্য

এই আইনের উদ্দেশ্য হল সেইসব মেয়েদের ন্যায়বিচার দেওয়া, যাদের সঙ্গে বিয়ের নামে ক্রমাগত শোষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এমন ছেলেদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা, যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের ফাঁদে ফেলে এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক শোষণ করে।

View post on Instagram

বিয়ের প্রতিশ্রুতি না দিলেও যদি মেয়ে অভিযোগ করে তাহলে?

তবে, কিছু ক্ষেত্রে এই আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কাও করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনি ঝুঁকি এড়াতে সম্পর্কের শুরুতেই স্বচ্ছতা রাখা জরুরি। আপনি যদি কোনো সম্পর্কে থাকেন এবং বিয়ের কোনো প্রতিশ্রুতি না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা আগে থেকেই স্পষ্ট করে নেওয়া উচিত। পারস্পরিক সম্মতিতে একটি লিখিত দলিল তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে এই সম্পর্কটি বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছাড়াই এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতি না হলে উভয় পক্ষই আলাদা হতে স্বাধীন থাকবে।