করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে আয়করের হার কমানোর ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাড়ানো হলো আয়করের ঊর্ধ্বসীমা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হবে না। একই সঙ্গে আয়করের হিসেবের সরলীকরণের জন্য নতুন কর ব্যবস্থা আনছে মোদী সরকার। 

কেন্দ্রীয় বাজেটেই এই ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারমণ। নতুন এই ব্যবস্থায় আয়ের উপরে সরাসরি কর নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় যে বিভিন্ন ধরনের কর ছাড়ের সুযোগ থাকে, সেগুলি বাদ দিয়েই নয়া ব্যবস্থায় কর নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, এর পরেও নতুন ব্যবস্থায় আগের তুলনায় লাভবান হবেন করদাতারা। 

একনজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন আয়করের হার-

  • বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর নয়। 
  • বাৎসরিক আয়  ৫ থেকে ৭.৫ লক্ষ পর্যন্ত আয়করের হার হবে ১০ শতাংশ। এখন দিতে হয় ২০ শতাংশ। 
  • বছরে ৭.৫ থেকে ১০ লক্ষ পর্যন্ত আয়ে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে দিতে হয় ২০ শতাংশ।
  • ১০ থেকে ১২.৫ লক্ষ পর্যন্ত ২০ শতাংশ কর দিতে হবে। এখন রয়েছে ২৫ শতাংশ।
  • ১২.৫ থেকে ১৫ লক্ষ পর্যন্ত আয় হলে ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এখন দিতে হয় ৩০ শতাংশ। 
  • ১৫ লক্ষ টাকার উপরে আয় হলে আয়করের হার হবে ৩০ শতাংশ। এই স্তরে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, নতুন আয়করের হারে বাৎসরিক আয় ১৫ লক্ষ টাকা হলে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে করদাতার।

একই সঙ্গে সীতারমণ জানিয়ে দিয়েছেন, করদাতারা চাইলে পুরনো ব্যবস্থাতেও কর দিতে পারবেন। আর যাঁরা নতুন ব্যবস্থায় কর দিতে চান, তাঁরা সেই সুযোগ নিতে পারবেন। 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, এতদিন প্রায় একশোটি ক্ষেত্রে করছা়ড়ের সুবিধে মিলত। ফলে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ত। সেই জটিলতা কমিয়ে কর আদায় প্রক্রিয়ার সরলীকরণের জন্যই নতুন কর কাঠামো আনা হচ্ছে। যে একশোটি ক্ষেত্রে কর ছাড়ের সুবিধে মেলে, সেগুলির মধ্যে থেকে প্রায় সত্তরটি তুলে দেওয়া হবে। করদাতারা যদি এই ছাড়গুলির সুবিধে নিয়ে আয়কর দিতে চান, তাহলে তাঁদের পুরনো ব্যবস্থাতেই কর দিতে হবে। আর যদি তাঁরা নতুন ব্যবস্থায় কাঠামোয় আয়কর নির্ধারণ করেন, তাহলে বিভিন্ন ছাড় বা টএক্সেমশন'-গুলির সুযোগ নিতে পারবেন না।