অষ্ঠম দফার বৈঠকও ব্যর্থ। বিজ্ঞান ভবনে ৪০টি কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা হল না। পরবর্তী বৈঠক আগামী ১৫ জানুয়ারি অর্থাৎ আগামী শুক্রবার। এদিন কৃষকরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে আইন প্রত্যাহার করলেই তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এদিন আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে নতুন তিনটি কৃষি আইন কিছুতেই প্রত্যাহার করা হবে না। 

এদিনের বৈঠকে কৃষকদের ৪০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোম প্রকাশ। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনও মূল্যেই আইন প্রত্যাহার করা হবে না। কৃষি মন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা  এই প্রতিবাদকে সমর্থন করছেন তাঁরা মনে করছেন, আইনগুলি বাতিল করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হবে না। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা এই আইনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। সরকার নিয়মিত কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে কথা বলছে যাঁরা এই আইন বাতিলের পক্ষে সওয়াল করছেন। তিনি আরও বলছেন এদিনও আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনও স্থির সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। পরবর্তী বৈঠক হবে ১৫ জানুয়ারি। 

 

এদিন বৈঠকে উপস্থিত হওয়া কৃষক সংগঠনের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি হাতে পোস্টার নিয়েই প্রবেশ করেন। তাঁদের পোস্টারে লেখা ছিল গয় তাঁরা করবেন, নাহলে তাঁরা মারা যাবেন। কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখপাত্র রাজেশ টিকাইত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তাঁরা আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোথাউ যেবেন না। ১৫ জানুয়ারি আলোচনায় তাঁরা অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এদিন সরকার নতুন তিনটি আইনের সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তাঁদের শর্ত অনুযায়ী তাতে রাজি হননি। সারা ভারত কৃষক সভার পক্ষ থেকে হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, আজ দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আইন বাতিল ছাড়া তাঁরা আর কিছুই চান না বলেও কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁরা আদালতে যাবে না বলেও জানিয়েছেন। আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। আগামী ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনে দিল্লির বুকে তাঁরা প্যারেড করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

তিনটি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৬ব নভেম্বর থেকে টাকা ৪৪ দিন দিল্লির টিকোরি, সিংহু বর্ডারে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। তাঁরা দিল্লিতে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ায় সীমানাতেই আবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ৫৯ জন কৃষকদের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে আন্দোলকারীদের পক্ষ থেকে।