নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি নিয়ে সারা দেশেই বিক্ষোভ চলছে। তারমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এনপিআর বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার আপডেট করার কথা তুলেছে। এনপিআর নিয়েও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তারমধ্যেই দক্ষিণ ভারতের একমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে এনপিআর-এর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। সবকিছু ঠিকটাক থাকলে আসন্ন নতুন বছরের শুরুর দিকেই এই শহরে শুরু হয়ে যাবে এনপিআর আপডেটের কাজ। একই সঙ্গে দুটি পর্যায়ে চলবে জনগণনা ২০২১-এর কাজও।

জানা গিয়েছে জনগণনার প্রথম পর্যায়ে বেঙ্গালুরুর সমস্ত বাড়িকে তালিকাভুক্ত করা হবে। আর তার সঙ্গেই সেড়ে ফেলা হবে এনপিআর আপডেট করার কাজ। আর জনগণনা ২০২১-এর দ্বিতীয় ধাপে শহরের জনসংখ্যা গণনা করা হবে। প্রথম পর্ব চলবে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২৯ মে এই ৪৫ দিন ধরে। আর পরবর্তী পর্বটি হবে ২০২১ সালের ৯ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা হবে।

আরও পড়ুন - এনপিআর কী, জনগণনার সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়, জেনে নিন সবকিছু

আরও পড়ুন - দেশজুড়ে এনআরসি এখনই নয়, মোদীর সুরেই জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ

আরও পড়ুন - প্রাণ থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প নয়, কেন্দ্রকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

এনপিআর-এ, কোনও ব্যক্তি যিনি ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে কোনও অঞ্চলে বসবাস করছেন বা পরবর্তী ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলে বসবাস করতে চান, এমন ব্যক্তিদের ডেমোগ্রাফিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটিতে জন্মের তারিখ এবং স্থান, স্থায়ী ঠিকানা, জাতীয়তা, শিক্ষা এবং পেশা সহ অন্যান্য বিবরণ নথিবুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, জনগণনা-তে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, ধর্ম, আবাসন এবং গৃহস্থালী সুযোগ-সুবিধার ইত্যাদির একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হবে।

২০২১ সালের মধ্যে এনপিআর সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্নাটকের জনগণনা সেনসাস ডিরেক্টর এস বি বিজয় কুমার। তিনি আরও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনও প্রামাণ্য নথিপত্র চাইবেন না। তবে কেউ চাইলে এনপিআর আপডেট করার সময় আধার নম্বর, প্যান, ভোটার আইডি কার্ড এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বরের বিশদ দিতে পারেন। তবে কেউ সেই সব বিশদ বিবরণী না জানালে এনপিআর থেকে বাদ পড়বেন না।