২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ভূয়সী প্রশংসা করলেন এয়ার মার্শাল দিলীপ কুমার পট্টনায়েক। এই অপারেশনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়, যার ফলে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।

'অপারেশন সিঁদুর'-এ তিন বাহিনীর দারুণ বোঝাপড়ার প্রশংসা এয়ার মার্শালের

প্রাক্তন এয়ার মার্শাল দিলীপ কুমার পট্টনায়েক বুধবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সফল রূপায়ণের জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলির মধ্যেকার বোঝাপড়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, এই সাফল্য আসলে শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং অপারেশনাল সিনার্জিরই প্রতিফলন।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারতের পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বায়ুসেনার প্রদর্শিত ক্ষমতার প্রশংসা করেন। এর পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বায়ুসেনা, নৌসেনা ও স্থলসেনার মিলিত প্রচেষ্টারও তারিফ করেন।

তিনি আরও বলেন যে, সঠিক সময়ে অপারেশন শেষ করার সিদ্ধান্তটি প্রশংসার যোগ্য, কারণ এর ফলে "প্রচুর জীবন ও পরিকাঠামোর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।" তিনি সংবাদ সংস্থা ANI-কে বলেন, "এটা বায়ুসেনার পূর্বসূরীদের দেওয়া প্রশিক্ষণ এবং ক্ষমতার এক চমৎকার উদাহরণ। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশনার এক দারুণ সমন্বয় ছিল... আমার মনে হয়, সঠিক সময়ে এটা থামানো হয়েছিল, যার ফলে বড়সড় জীবনহানি ও পরিকাঠামোর ক্ষতি আটকানো গেছে... স্থলসেনা, নৌসেনা, বায়ুসেনা এবং অসামরিক সহায়তার মধ্যে অসাধারণ বোঝাপড়া ছিল, যার পিছনে ছিল জাতীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী নির্দেশনা।"

শিক্ষা: ত্রি-সার্ভিস কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ

এদিকে, 'অপারেশন সিঁদুর' থেকে পাওয়া শিক্ষার অংশ হিসেবে, প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলি এই মাসের মধ্যেই দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ত্রি-সার্ভিস জয়েন্ট অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার (JOCC) চালু করার দিকে এগোচ্ছে।

আধিকারিকদের মতে, ভবিষ্যতের অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনীগুলি অন্য একটি জায়গায় একটি গভীর ভূগর্ভস্থ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার তৈরির কথাও ভাবছে।

প্রস্তাবিত JOCC-তে তিন বাহিনীর অফিসার ও কর্মীরা থাকবেন এবং আশা করা হচ্ছে যে এটি শীর্ষ কমান্ডারদের স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার একটি রিয়েল-টাইম অপারেশনাল চিত্র দেবে।

চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS)-এর নেতৃত্বে চিফস অফ স্টাফ কমিটির একাধিক বৈঠকে JOCC-র ধারণাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। CDS ইতিমধ্যেই থিয়েটার কমান্ড তৈরির বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

'অপারেশন সিঁদুর': এক প্রতিশোধমূলক আঘাত

পহেলগাম জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পরই 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু হয়েছিল, যা ভারতের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী সামরিক জবাব ছিল। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানে।

২০২৫ সালের ৭ মে শুরু হওয়া 'অপারেশন সিঁদুর'-এ ভারত সফলভাবে পাকিস্তান এবং PoJK-তে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ৯টি প্রধান জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে। এই অভিযানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে খতম করে।

পাকিস্তান ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণ করে এর জবাব দেয়, যার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চার দিনের একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারত তার দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে লাহোরের রাডার ইনস্টলেশন এবং গুজরানওয়ালার কাছে রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতীয় DGMO-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন, যার ফলে এই সংঘাতের অবসান ঘটে।