শনিবার, ছত্তিশগড়ের বিজাপুর ও সুকমা জেলার সীমান্তে মাও হানায় শহিদ হয়েছেন ২৩ জন জওয়ান। সোমবার সুকমায় এসে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত মাসেই মাও বিরোধী অভিযানের সময় ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে আইইডি বিস্ফোরণে জেলা রিজার্ভ গার্ডের (ডিআরজি) পাঁচজন সদস্য নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। চলতি বছরে এই নিয়ে বেশ কয়েকটি মাও হামলার ঘটনা ঘটল। তাহলে কি ফের বাড়ছে মাওবাদী কার্যকলাপ? কী বলছে পরিসংখ্যান?

জানা গিয়েছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ - এই তিন বছরে দেশে অন্তত ২,১৬৮ টি মাওবাদী হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আর তার বলি হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৬২ জন জওয়ান। মাও হানায় প্রাণ গিয়েছে ৪৬৩ জন অসামরিক নাগরিকেরও। এই একই সময়ে, নিহত হয়েছে ৪৭৩ জন মাও জঙ্গি, আর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪,৩১৯ জনকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভায় এই তথ্য দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

তবে ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্য়ে অনেকটাই কমেছে মাও হামলার সংখ্যা, এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। লোকসভায় মন্ত্রকের প৭ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের এক বছরেই হামলা হয়েছিল ২২৫৮টি। সেখান থেকে ২০২০ সালে তা কমে ৬৬৫-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, হামলার পরিমাণ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। আর এরফলে অসামরিক নাগরিক ও সুরক্ষা বাহিনীর মৃত্যুর সংখ্যাও ৮০ শতাংশ কমেছে। ২০১০ সালে ১,০০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, ২০২০-তে তা কমে হয়েছে ১৮৩।

অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, এবং তেলেঙ্গানা - এই ৮ মাও অধ্যূষিত রাজ্যে ২০১৮ সালে ৮৩৩টি মাও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ১৭৩ জন অসামরিক নাগরিক এবং ৬৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের। ২২৫ জন মাও সদস্য নিহত হয়েছিল, গ্রেফতার ১,৯৩৩ জন।

২০১৯ সালে, এই রাজ্যগুলিতে মাও হিংসার ৬৭০টি ঘটনায় ১৫০ জন নাগরিক এবং ৫২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছিলেন। মাওবাদীদের পক্ষ নিহত হয়েছিলেন ১৪৫ জন এবং ১,২৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে, এই রাজ্যগুলিতে ৬৬৫টি মাও হিংসার ঘটনায় কমপক্ষে ১৪০ জন অসামরিক নাগরিক এবং ৪৩ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। আর মাও জঙ্গি নিহত হয়েছিল ১০৩ জন, গ্রেফতার ১,১১০ জন।