পাকিস্তানের গুপ্তচরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে এক নৌসেনা আধিকারিক এবং এক চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চরচক্রের খোঁজে দেশের ১০টি রাজ্যে তল্লাশি চালানো হয়। মোট ১৮ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ১৩ জনই নৌবাহিনীর কর্মী।

অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ এক নৌসেনা আধিকারিক এবং এক চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তারা পাকিস্তানের গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শত্রুদেশের হাতে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন তথ্য তুলে দিচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই চরচক্রের সঙ্গে জড়িত ১৮ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ১৩ জনই নৌবাহিনীর কর্মী।

বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পাকিস্তানি মহিলা গুপ্তচরের 'হানিট্র্যাপে' পা দেন তিনি। এরপরই ওই মহিলার সঙ্গে সেনার একাধিক অতি সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করতে শুরু করেন। ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিজয়ওয়াড়া আদালত প্রদীপকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি বিজয়ওয়াড়া জেলা সংশোধনাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়িচালক অন্নম সাই প্রসাদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনেরই ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত চলছে।

১০ রাজ্যে ১২টি দলের একযোগে তল্লাশি

এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য চুরি করছিল পাকিস্তানি গুপ্তচররা। এই খবর পেয়ে গত ১ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড় এবং বিহার—এই ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালায় সিআই (CI)-এর ১২টি বিশেষ দল। এই মেগা অপারেশনে মোট ১৮ জন সন্দেহভাজনের ওপর কড়া নজর রাখা হয়। তদন্তে উঠে আসে, এদের মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মী।

গ্রেফতার হওয়া দুই মূল অভিযুক্তের পরিচয়

গ্রেফতার হওয়া দুই মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে এবং তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। ৩১ বছর বয়সি প্রদীপ মুখোপাধ্যায় ২০১৪ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাক এজেন্টদের পাতা 'হানিট্র্যাপে' ফেঁসে যান তিনি। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে একটি ট্রেনিং কোর্সে থাকাকালীন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি (OTP) শেয়ার করা এবং সমুদ্রপথে নজরদারি সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে আপাতত বিজয়ওয়াড়া জেলা সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে।

অন্নম সাই প্রসাদ বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে একজন সাধারণ চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক হিসেবে কাজ করত। টাকার লোভে সে বিশাখাপত্তনমের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গোপন তথ্য পাক এজেন্টের কাছে পাচার করে। তাকে বিশাখাপত্তনম জেলা সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। আদালত দুই অভিযুক্তকেই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

বাকি ১৬ সন্দেহভাজনের ওপর কড়া নজর

বাকি ১৬ জন সন্দেহভাজনের ডিজিটাল যোগাযোগ, ব্যাঙ্কের লেনদেন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে সিট (SIT) এবং কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসদমন শাখা। গত ২ সেপ্টেম্বর বিজয়ওয়াড়া কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ইউএপিএ (UAPA) এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে একটি কড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।