আবারও পিএম কেয়ারস ফান্ড নিয়ে সরগরম হচ্ছে রাজধানীর রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাত্র পাঁচ দিনেই পিএম কেয়ারস ফান্ডে জমা পড়েছে  তিন হাজার ছিয়াত্তর কোটি টাকা।   কারা কারা এই টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে জমা করেছেনে তা জানতে চেয়ে নরেন্দ্র মোদীকে ইতিমধ্যেই নিশান করেছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। 


করোনাভাইরাসের কারণে যে মহামারি মুখোমুখি হয়েছে দেশ, তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ২৭ মার্চ  তৈরি করা হয়েছিল পিএম কেয়ারস ফান্ড। মাত্র ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। আর সেই ফান্ডে প্রথম পাঁচ দিনে অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত জমা পড়া অর্থের পরিমাণ হল ৩,০৭৬ কোটি টাকা। তথ্য জানার অধিকার আইন প্রয়োগ করেও পিএম কেয়ারস ফান্ড সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেনি দেশের মানুষ। পিএম কেয়াসর ফান্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে পিএম কেয়ারস ফান্ডে জমা পড়া আর্থিক অনুদানের তথ্য। 

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে খোলা হয়েছিল এই তহবিল। মাত্র পাঁচ দিনেই জমা পড়ে ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৮৫লক্ষ  ৪৫  টাকা। এর মধ্যে বিদেশী অনুদান মাত্র ৩৯ লক্ষ৬৭ হাজার ৭৪৮ টাকা। বাকি পুরো টাকাই দেশের মানুষের অনুদানের টাকা। ওই টাকার ওপর ৩৫ লক্ষেরও বেশি টাকা সুদও জমা পড়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। জমা পড়া টাকার পরিমান সম্বন্ধে তথ্য প্রকাশ করলেও দেশ ও বিদেশের কোন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা এই ফান্ডে অনুদান দিয়েছে তা নিয়ে পুরোপুরি মুখে কুলুপ এঁটেছে পিএমও। পিএম কেয়ারস ফান্ডের ওয়েবসাইটেই এই তথ্য আপলোড করা হয়েছে। অডিটরের তথ্যে ওপর তৈরি রিপোর্টের পুরোটাই আপলোড করা হয়েছে। কিন্তু বাদ রাখা হয়েছে ১-৬ নম্বর নোটটি। যার অর্থ দেশি ও বিদেশি অনুদানকারীদের নামের তালিকা ইচ্ছে করেই প্রকাশ করা হয়নি। তাই নিয়েই সরব হয়েছে কংগ্রেস। 

কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম দাবি করেছেন, বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পিএম কেয়ারস ফান্ড নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন তিনি। চিদম্বরমের দাবি অবিলম্বে অনুদানকারীদের নাম প্রকাশ করা হোক। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখান, পিএম কেয়ারস ফান্ডে মাত্র পাঁচ তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। কিন্তু যে দয়ালু ব্যক্তিরা অনুদান দিয়েছিলেন তাঁদের নাম কেন প্রকাশ করা হবে না? স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ট্রাস্টে কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা অনুদান দেয় তাহলে অনুদানকারীর নাম প্রকাশকরা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন ছাড়া দেওয়া হচ্ছে বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। চিদম্বরম বলেন, যিনি দান গ্রহণ করছেন, তাঁকে সকলে চেনেন। ট্রাস্টিরাও সকলের পরিচিত। তাহলে অনুদানকারীদের নাম কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না, তাও জানতে চেয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী।