সোমবার ভারতে কোভিড-১৯ টিকাকরণের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এই টিকা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সারা  দেশকে বিশেষ বার্তা দিলেন বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য়মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী টিকা নেওয়ায় করোনার টিকা নিয়ে যে সব ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিল, সেগুলিও কবরে চলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সোমবার, এক সাংবাদিক বৈঠক করে হর্ষ বর্ধন বলেন, তিনি শুরু থেকেই বলেছিলেন, ভারতে করোনার যে দুটি টিকাকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই দুটি টিকাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সংক্রমণের মোকাবিলায় যথাযথ। কিন্তু, তারপরও টিকা নিয়ে বিশেষ করে ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে জনমানসে সংশয় ছিল। এদিন সেই কোভ্যাক্সিন টিকাই নিয়েছেন মোদী। আর তার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন পেশায় চিকিৎসক হর্ষ বর্ধন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বলে থাকেন, নেতাদের সাধারণ মানুষের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তিনি সবার আগে ভ্যাকসিন ডোজ নিয়ে সেই উদাহরণই তৈরি করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বৈজ্ঞানিকভাবে নিখুঁত হওয়া সত্ত্বেও যে কোভাক্সিন টিকা নিয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই টিকাই গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী ভারতবাসীকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি। সেই বার্তা হল, সমস্ত ভুল তথ্য এবং দ্বিধাগ্রস্থতা সরিয়ে এবার সকল ভারতবাসীর করোনা টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন টিকা নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার প্রমুখ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরা। কিন্তু, পেশায় চিকিৎসক এবং বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়া সত্ত্বেও এখনও করোনার টিকা গ্রহণ করেননি খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কবে ভ্যাকসিন নেবেন তিনি? ডাক্তার হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, সোমবারই তিনি টিকা নেওয়ার জন্য নিজের নাম বুক করবেন এবং আগামীকালই তাঁর টিকা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ৬০ ঊর্ধ্ব এবং কোমরবিডিটি থাকা ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের সকলকে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সমস্ত সাংসদ-বিধায়ক, এমনকী বিরোধী দলের নেতাদের কাছেও টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।