প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গরিব কল্যাণ যোজনার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অন্ত্যোদয় যোজনা থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পগুলির মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাধারণ মানুষকে সম্মান ও সুযোগ দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার প্রধান মন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার (PMGKY) ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে চালু হওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিষয়েই তিনি আলোকপাত করেন।

গরিব কল্যাণ যোজনা নিয়ে মোদীর বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী অন্ত্যোদয় যোজনা, স্বচ্ছ ভারত, পিএম আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত এবং অন্যান্য উদ্যোগের মূল সাফল্যগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সমস্ত প্রকল্প চালুর পিছনে একটাই সহজ উদ্দেশ্য ছিল – সাধারণ মানুষের সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "গত ১২ বছরে ভারত অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে এবং এই পরিবর্তনগুলির মূলে রয়েছে গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণ। আমরা সবসময় অন্ত্যোদয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল, উন্নয়নের সুফল যেন সেই সব মানুষের কাছে পৌঁছায়, যাঁরা কয়েক দশক ধরে বঞ্চিত ছিলেন। জন ধন অ্যাকাউন্ট এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত, পিএম আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত-সহ প্রতিটি উদ্যোগের পিছনে একটাই সহজ উদ্দেশ্য ছিল, আর তা হল মানুষের সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত করা।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গরিব মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, এর ফলে দুর্নীতি কমেছে, কার্যকারিতা বেড়েছে এবং প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা মজবুত হয়েছে।
তিনি পোস্টে আরও লেখেন, "এটাও আনন্দের বিষয় যে গরিব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি এবং স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতি কমেছে, কার্যকারিতা বেড়েছে এবং প্রশাসনের উপর আস্থা মজবুত হয়েছে। এভাবেই গরিব কল্যাণের যাত্রা মানুষের ক্ষমতায়নের এক সম্মিলিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং এক বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করছে।"
দারিদ্রের হার কমছে
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ভারতে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। মাত্র এক দশকের মধ্যে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন।
ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) হল সরকারি পরিষেবা প্রদানের পদ্ধতিতে একটি বড় সংস্কার। এর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক বা পোস্টাল অ্যাকাউন্টে (বিশেষত আধার সংযুক্ত) সরাসরি টাকা বা অন্যান্য সুবিধা পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি কমাতে এবং দ্রুত সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।


