কেরলের মালাঙ্কারা চার্চের সম্পত্তির দখল নিয়ে অর্থোডক্স এবং জ্যাকবিয়ান - দুই ভিন্ন চার্চ গোষ্ঠীর মধ্য়এ দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আদালতে গিয়েও এরহ কোনও সমাধান মেলেনি। এবার সেই কোন্দল মেটাতে আসরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বড়দিনের দিন এমনটাই জানিয়েছেন মিজোরামের রাজ্যপাল পিএস শ্রীধরণ পিল্লাই।

এদিন, পিএস শ্রীধরণ পিল্লাই জানিয়েছেন, চার্চের সম্পত্তির বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নিষ্পত্তি করার উপায় খুঁজতে, বড়দিনের পরই দু'পক্ষের বিশপদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তারপর দুইপক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ সভা করা হবে। মিজোরামের রাজ্যপাল আরও জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতেই এই বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হবে। শীঘ্রই এর তারিখগুলি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী মোদী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কেরলের বিভিন্ন চার্চ সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত করে, তাঁকে বিভিন্ন খ্রিস্টান গোষ্ঠীর প্রধানদের সাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছিলেন মিজোরামের রাজ্যপাল পিএস শ্রীধরণ পিল্লাই। ওই স্মারকলিপিতে খ্রিস্টান নেতারা সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল না পাওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এই তহবিলের মাত্র ২০ শতাংশ পাচ্ছেন খ্রিস্টানরা। অথচ ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪০ শতাংশই খ্রিস্টান। তাই এই তহবিলের আরও বেশি অংশ তাঁদের প্রাপ্য বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া, ইসলামি চরমপন্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খ্রিস্টান নেতারা। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে, তাঁরা জানিয়েছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মেয়েদের ভুলিয়ে ভালিয়ে ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া গোটা বিশ্বের মতোই ভারতেও গীর্জায় আক্রমণ বাড়ছে। এই সব উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র কাছেও প্রকাশ করেছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা।