মঙ্গলবার নয়াদিল্লির আইপি এক্সটেনশনে দশেরা উদযাপনে যোগ দিয়ে রামরাজ্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।
ভগবান রামের আদর্শ আজও দেশকে পথ দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার নয়াদিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে দশেরা উদযাপনে যোগ দিয়ে এই কথা বলেন। তিনি 'রামরাজ্য'-কে সুশাসনের এমন এক মডেল হিসেবে তুলে ধরেন, যা ন্যায়বিচার, সাম্য আর জনকল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
PM মোদীর শুভেচ্ছা দেশবাসীকে
বিজয়াদশমী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই উৎসব আসলে মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন জয় আর অন্যায়ের অবসানের প্রতীক। মোদী বলেন, "বিজয়াদশমীর এই পবিত্র দিনে আমি ভগবান শ্রীরাম, মাতা জানকী আর বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানাই। এই পুণ্য লগ্নে দেশবাসীকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজ ভারতের প্রতিটি কোণায় রামের নাম। দেশজুড়ে রামলীলার আয়োজন, শ্রীরামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার ঐতিহ্য, অন্যায়ের বিনাশ আর মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের জয়ের বিশ্বাস—এসব আমাদের কাছে শুধু উৎসব নয়, ভারতের প্রাণশক্তি।"
রামরাজ্যের কথা মোদীর ভাষণে
প্রশাসনে রামের আদর্শ কতটা জরুরি, তা বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামরাজ্যের ধারণা আজও এক আদর্শ প্রশাসনের মাপকাঠি। যেখানে নাগরিকদের ভালো রাখাই সবচেয়ে বড় কথা। তাঁর কথায়, "রামরাজ্য মানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা, যেখানে কারও সঙ্গে বৈষম্য হয় না। সবাই ন্যায়বিচার পায়, সমান সুযোগ পায়। ক্ষমতার উদ্দেশ্য এখানে শাসন করা নয়, মানুষের সেবা করা। এটাই ভগবান শ্রীরামের আদর্শ। তাই আমাদের সবসময় 'জনতাই জনার্দন' মন্ত্র নিয়ে এগোতে হবে। গরিব আর পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।"
আত্মনির্ভর আর একজোট থাকার বার্তা নরেন্দ্র মোদীর
আত্মনির্ভরতা আর একজোট হয়ে কাজ করার ওপরও জোর দেন মোদী। রামের লঙ্কাযাত্রার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাধা যতই আসুক, দেশের লক্ষ্য থেকে সরে আসা উচিত নয়। নিজেদের ক্ষমতা আর পরিশ্রমে ভরসা রেখেই সমাধান খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, "সঙ্কট যতই বড় হোক, চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক, অন্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তি চিনতে হবে। নিজেদের সম্পদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ভগবান শ্রীরাম শিখিয়েছেন, পথের বাধা আমাদের যাত্রা থামাতে পারে না। সামনে বিশাল সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে। কিন্তু রামজির সংকল্প ছিল অটুট। তিনি মানুষের শক্তিকে একজোট করেছিলেন, আর অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। এটাই সাফল্যের আসল মন্ত্র।"
দেশের স্বার্থে সবাইকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্ষতি করতে চায় এমন শক্তির বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল আর প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে লড়তে হবে। তাঁর কথায়, "আমাদের চিন্তাভাবনা এক হওয়া উচিত। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় স্বার্থে একজোট হতে হবে। যারা দেশের ক্ষতি করে, সমাজকে ভাগ করে, আমাদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে—তারাই দেশের আসল শত্রু। এদের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে লড়তে হবে।"
ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং বিদেশ থেকে চুরি যাওয়া প্রাচীন মূর্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন মোদী। তিনি জানান, গত ১২ বছরে ৬৫০টিরও বেশি প্রাচীন মূর্তি দেশে ফেরানো হয়েছে। তিনি বলেন, "একটা দেশ তখনই এগোয়, যখন তার আত্মসম্মানবোধ থাকে। আর এই আত্মসম্মান তৈরিতে বড় ভূমিকা নেয় দেশের ঐতিহ্য। তাই আজ দেশ তার ঐতিহ্য আর পরিচয় রক্ষায় কাজ করছে। বহু শতাব্দী ধরে আমাদের ঐতিহ্য লুট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনছি। বিশ্বমঞ্চে ভারতের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো আজ নতুন পরিচয় পাচ্ছে।"
বিজয়াদশমীর বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, এই উৎসব আমাদের শেখায় যে চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক না কেন, সত্য আর মানবতার জয় হবেই। তিনি বলেন, "বিজয়াদশমী হল জয়ের উৎসব। শত্রু যতই শক্তিশালী হোক, আমরা যদি সত্য আর মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, তবে জয় আমাদেরই হবে। বিজয়াদশমীর এই চেতনাই ভারতের দর্শনের মূল কথা।"








