গত ডিসেম্বরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হয় সংসদে। তার পরেই তীব্র আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়েছিল অসম। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে শেষপর্যন্ত সেনা নামাতে হয়। তাতেও অবশ্য ঠেকানো যায়নি মৃত্যু। এই আবহে দু'বার পরিকল্পিত অসম সফর পিছিয়ে দিতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তবে শেষপর্যন্ত শুক্রবার অসমে পা রাখলেন মোদী। কোকরাঝাড়ে ঐতিহাসিক বোড়ো শান্তি চুক্তির উজ্জাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন নরেন্দ্র মোদী। 

একদিনের সফরে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে পা রেখেই অসমবাসীর বিশ্বাস জয়ের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, 'অসমবাসীর 'বিশ্বাসের' নতুনস্তর রচনার জন্যই আজ আমি এখানে।' গত ২৭ জানুয়ারি পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবিতে লড়াই করা উগ্রপন্থী সংগঠন এনডিএফবি-র সঙ্গে রাজধানী দিল্লিতে  শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। অসম সরকার, কেন্দ্র এবং এনডিএফবির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সেই চুক্তি উদযাপন করতেই অসমে যান প্রধানমন্ত্রী। এই চুক্তিকে এদিন প্রধানমন্ত্রী 'ঐতিহাসিক' বলে আখ্যা দেন। বলেন, 'বোড়ো চুক্তির ফলে আন্দোলনকারীদের বহু দাবি পূরণ হবে। শান্তি ফিরবে এলাকায়।' 

আরও পড়ুন: নির্জন রেলসেতুতে তরুণীকে জোর করে চুম্বন, সিসিটিভির দৌলতে শ্রীঘরে অভিযুক্ত

মোদী বলেন,'সমগ্র ভারত আপনাদের (বোড়ো উপজাতি) ধন্যবাদ জানাচ্ছে এবং আপনাদের সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশও উদযাপন করছে। কারণ আপনারা সকলেই শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন এবং শক্তিশালী ভারত গড়ার পক্ষে আপনারও অবদান রাখতে রাজি হয়েছিলেন।" 

আরও পড়ুন: বিয়ের পর শুরু হয় এড়িয়ে চলা, সমকামী সঙ্গীকে খুন করে ঝোপে লুকিয়ে রাখল যুবক

বড়ো চুক্তি সম্পাদনকে ঘিরে  এদিন বিরাট মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল কোকরাঝাড়ে। এই মিছিলকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দেখা অন্যতম বড় মিছিল বলে সম্বোধন করেন মোদী। চুক্তি অনুযায়ী বোড়ো উপজাতির উন্নয়নে ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার লোকসভায় রাহুল গান্ধীকে 'টিউব লাইট' বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনও তার ভাষণে উঠে এসেছে রাহুল গান্ধীর প্রসঙ্গ। রাহুলের 'ডান্ডা ভাঙার' মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় মোদী বলেন, 'বেশ কয়েকজন নেতা আমাকে লাঠি দিয়ে প্রহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের বহু মায়ের আশীর্বাদে আমি বেঁচে গেছি। আমি তাঁদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।'