করোনা পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমে দেশে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমদফার লকডডাউনের শেষের দিন গত ১৪ এপ্রিল আরও ১৯ দিনের জন্য সেই মেয়াদ বাড়িয়ে দেন নরেন্দ্র মোদী। হিসেব অনুযায়ী আগামী রবিবার শেষ হচ্ছে দ্বিতীয় দফার লকডাউনের মেয়াদ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র এবার কোনপথে এগোবে তা নিয়েই জোড় আলোচনা চলছে দেশজুড়ে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একাধির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোরই অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরাও এখনি দেশ থেকে লকডাউন তুলে নেওয়ার পক্ষপাতী নন। এই অবস্থায় এবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল ও অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও। 

করোনা মরবে সূর্যের আলোয়, ভরসা রেখে এবার শুরু হল রোদ থেরাপি

আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দেশ, ২ সপ্তাহে রেড জোন কমলেও বাড়েনি করোনামুক্ত গ্রিন জোনের সংখ্যা

রাজ্যের ১০ টি জেলা এখনও রয়েছে করোনার রেড জোনে, একনজরে চোখ বুলিয়ে নিন আপনি রয়েছেন কোথায়

লকডাউনের দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হতে চললেও সংক্রমণ এদেশে বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যাও এগারোশের গণ্ডি পেরিয়েছে। রেকর্ড করে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৯৩ জন। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই দেশের গ্রিন, অরেঞ্জ ও রেড জোনের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রী দ্বিতীয় দফার লকডাউন চলাকালীন বেশ কিছু ক্ষেত্রকে ছাড়পত্র দিয়েছে। সূত্রের খবর, সোমবার থেকে লকডাউন পাকাপাকিভাবে না ওঠার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে রেড জোনে থাকা ১৩০টি জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করে রাখলেও গ্রিন জোনে থাকা জেলাগুলিকে কিছুটা ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

দ্বিতীয় দফার লকডাউন পরবর্তী স্ট্যাটেজি ঠিক করতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বৃহস্পতিবারই আমলাদের পরামর্শ নেন। এমনিতেই করোনা পরিস্থিতির ফলে দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে। নেতিয়ে পড়া অর্থনীতিকে কীভাবে চাঙ্গা করা যায় তাই ভারত সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে এদিনের বৈঠকে সেই বিষয়েই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, লকডাউন পরবর্তী পরিস্থিতিতে মেক ইন ইন্ডিয়ার ওুপ জোর দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় সংস্থাগুলি যাতে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেই বিষয়টিকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি করোনা উত্তর পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বিদেশি সংস্থাগুলি যাতে ভারতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ায় সেই বিষয়টিতেও জোড় দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।