নরেন্দ্র মোদী নিজে কখনও এমনটা দাবি না করলেও, তাঁর সেনাপতি অমিত শাহ-সহ বিজেপির অনেক ছোট-বড় নেতাই দাবি করেন, আগামী ৫০ বছর ভারতে শাসন করবে বিজেপি। বিজেপির অনেক সমর্থকই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করে থাকেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪-ই নরেন্দ্র মোদীর শেষ মেয়াদ। তারপর শুরু হবে অমিত শাহ-এর রাজত্ব, তারপর যোগী আদিত্যনাথ। বিজেপি আগামী ৫০ বছর রাজত্ব করবে কিনা, তা ভবিষ্যত জানে। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তত ২০২৪ সালে মোদী বানপ্রস্থে যাচ্ছেন না। অমিত শাহকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা বছর।

২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বয়স হবে ৭৫ বছর। অনেকেই তাই মনে করেন, পরের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি জিতলে, অন্য কারও হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিশ্রামে যাবেন তিনি। কিন্তু, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চাতুর্যের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদ যে আরও বেশি হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তার লক্ষ্যগুলির পরিসর তিনি ২০২২ থেকে ২০২৯ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন। তাঁদের মতে সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই বিষয়ে সাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন মোদী স্বয়ং।

আরও পড়ুন - মেয়ের হাতে ধরা পড়ল বাবার ব্যভিচার, অনলাইন ক্লাসের জেরে ফাঁস অন্তরঙ্গ ভিডিও

আরও পড়ুন - গোয়ালিয়রের রাস্তায় ভিক্ষা করছেন কানপুর আইআইটির ইঞ্জিনিয়ার, মুখে ছুটছে ইংরাজির বন্যা

আরও পড়ুন - ভাইরাল জেপি নাড্ডার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি, সত্যিই কি 'পিসিমণির মনটা' ভেঙে দিলেন বিধায়ক

ওই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, গত সাড়ে ছয় বছরে ভারতে প্রচুর কাজ হয়েছে। তবে পরবর্তী ৯ বছর ভারতের বৃদ্ধি এবং ভারতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর থেকেই পরবর্তী সরকারের সময়ও তাঁর সরে যাওয়ার কোনও অভিপ্রায় যে নেই, তা সাফ বুঝিয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।   

তাঁরা বলছেন, এর আগে বহু অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলতে শোনা গিয়েছে ২০২২ সালের গুরুত্বের কথা। ওই বছর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ তম বার্ষিকী। তারমধ্যেই কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রত্যেক ভারতীয়র পাকা বাড়ি থাকবে, সকলের জন্য শিক্ষার মতো প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে কৃষকদের আয় দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি তিনি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরই দিয়েছিলেন বলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সএই সময় তাঁর লক্ষ্যমাত্রা ছিল পরের ৫ বছর। পরবর্তী ক্ষেত্রে তিনি লক্ষ্যপূরণের সময় ২০২২ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছিলেন।

এখন তিনি বলছেন আগামী ৯ বছরের গুরুত্বের কথা। বলছেন, এই সময়কালে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশ্লে।কদের মতে তাঁর এই বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে - ১) এখন থেকেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়-কে পাখির চোখ করে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আর ২) ২০২৪-এ তিনি সরছেন না, ২০২৯ সাল পর্যন্ত অন্তত তিনিই থাকছেন বিজেপির প্রধান নেতা।