গুজরাটের বানাসকাণ্ঠার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানালেন, জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তিনি দেশের মানুষের সেবাতেই নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। একই সঙ্গে বনাসকাণ্ঠার আলু চাষী ও বানাস ডেয়ারির ভুয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গুজরাট ও দেশের মানুষের সেবাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ তাঁর ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, সেই ভরসার মর্যাদা দিয়েই নিজের সমস্ত সাফল্যকে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি। বানাসকাণ্ঠার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, এক অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান—যার পূর্বপুরুষরা কোনোদিন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হওয়ার কথাও কল্পনা করেনি—তাকে গুজরাট ও গোটা দেশের সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

কংগ্রেসকে নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যে পরিবারের অতীত ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে কেউ পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার স্বপ্নও দেখেনি, সেই পরিবারের একজন মানুষকে আপনারা কাজের যোগ্য মনে করেছেন। আপনারা আমার ওপর ভরসা রেখে প্রথমে গুজরাট এবং পরে পুরো দেশের দায়িত্ব দিয়েছেন।" মোদী আরও বলেন, "জনসেবাই হলো আসল রাষ্ট্রসেবা। গুজরাটের বিকাশ হলেই দেশের বিকাশ সম্ভব। দেশের জন্য আজ আমি যা কিছু করতে পেরেছি, তার পুরো কৃতিত্ব আমার দেশের মানুষের।" এর পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "এই ঋণের কথা আমি সারা জীবন মনে রাখব। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনাদের সেবায় নিজেকে সঁপে দেব।"

আলু চাষ নিয়ে আশাবাদী মোদী

কৃষি ও সমবায় ক্ষেত্রে বানাসকাণ্ঠার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অঞ্চলের আলু আজ বিশ্বজুড়ে নাম করেছে। এর পাশাপাশি বানাস ডেয়ারি কীভাবে গুজরাটের গণ্ডি পেরিয়ে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তারও প্রশংসা করেন তিনি। মোদী বলেন, "বানাসকাণ্ঠার আলু আজ বিশ্বখ্যাত। এখানকার মানুষকে এসে কেউ যদি বলে যে আলু থেকে সোনা বানিয়ে দেবে, তবে তা চলবে না—কারণ এখানকার চাষীরা নিজেরাই তা করে দেখাচ্ছেন! বানাস ডেয়ারির মতো সমবায় ব্র্যান্ড কেবল এখানেই থমকে নেই, কাশীসহ দেশের নানা প্রান্তে নিজেদের কাজ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমি বানাস ডেয়ারির কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, কারণ আমার নির্বাচনী ক্ষেত্র কাশীর মানুষও তাদের অভিজ্ঞতা ও সেবার সুবিধা পাচ্ছেন।" তিনি জানান, আলু প্রসেসিং প্ল্যান্টের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে চাষীদের কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণে আলু কেনা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।

ফল ও সবজি চাষীদের জন্য শুরু হওয়া 'ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম'-এর কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের অধীনে টমেটো, আলু, লঙ্কা, আঙুর, কলা, পেঁয়াজ, কমলালেবু, বেদানা এবং কোকো—এই সব ফসলের জন্য ১২টি ক্লাস্টার অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা নতুন বাগান তৈরি ও পুরোনো বাগানের হাল ফেরাতে সরকারি ভর্তুকি পাবেন। উত্তর গুজরাটের জন্য অনুমোদিত দুটি ক্লাস্টার থেকে বানাসকাণ্ঠা ও সবরকাণ্ঠার আলু চাষীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

যুদ্ধ নিয়ে বার্তা মোদীর

সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু লোক দেশে সার ও গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে মিথ্যে রটাচ্ছে। মোদী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আজ দেশের প্রতিটি যুবক, বোন ও কন্যা ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন। কিন্তু কিছু মানুষের এটা পছন্দ হচ্ছে না। তারা দেশকে সমস্যায় দেখতে ভালোবাসে। গালফ অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে যখন পুরো দেশ একটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, তখন কিছু লোক সার ও গ্যাসের যোগান নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। মোদীকে অপমান করতেই তারা এসব করছে।"

কৃষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বিপুল বাড়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার সেই বোঝা চাষীদের ওপর পড়তে দেয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "পারস্য উপসাগরে ঝামেলা এখনো চলছে, তা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে সারের আকাশছোঁয়া দামের আঁচ আমরা দেশের কৃষকদের গায়ে লাগতে দিইনি।"