দীপাবলির মরশুমে ব্যবসা বাঁচাইতে ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের মেগা ব়্যালি পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানালেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে ১০ নভেম্বরের পর সভা করার অনুরোধ করেছে সদর বাজারের ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন।

১ নভেম্বরের প্রস্তাবিত 'ইন্ডিয়া' জোটের মেগা র্যালি দীপাবলির কেনাকাটার মরশুমের পর অর্থাৎ ১০ নভেম্বরের পরে করার আবেদন জানিয়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। দিল্লির সদর বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল সংগঠন 'ফেডারেশন অফ সদর বাজার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (রেজিঃ)', লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছে।

রাহুল গান্ধীর কাছে আবেদন দিল্লির ব্যবসায়ীদের

সংগঠনটি চিঠিতে জানিয়েছে, এই সময়ে দিল্লিতে ব্যবসার অন্যতম সেরা মরশুম চলে। ধনতেরাস থেকে দীপাবলির মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সারা বছরের রুটিরুজি নির্ভর করে এই সময়টার ওপর। ১ নভেম্বরের র্যালির কারণে তাঁদের এই ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে একের পর এক প্রতিবাদ, মিছিল ও ট্র্যাফিক বিধিনিষেধের কারণে তাঁরা ইতিমধ্যেই বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ভিড়ে ঠাসা পাইকারি বাজারগুলোতে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া এবং পণ্য পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ Rahul Gandhi March: 'পুলিশের লাঠি নিয়ে ভয় নেই!' ১ নভেম্বর 'চলো দিল্লি' অভিযানের আগে রাহুলের খোলা চিঠি

সদর বাজার, চাঁদনি চক, খারি বাওলি ও চাওড়ি বাজারের মতো বড় বড় বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে আবারও এই ব়্যালির বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। রাস্তা বন্ধ রাখা, ট্র্যাফিক ডায়ভার্সন এবং ভিড়ের কারণে উৎসবের মুখে ক্রেতা পৌঁছাতে পারবেন না, মালপত্র আনা-নেওয়াও থমকে যাবে। এতে ফের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুনঃRahul Gandhi: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শিব-ভরসা রাহুলের, ত্রিপুণ্ড্র তিলকের ছবি পোস্ট

১০ নভেম্বরের পরে মিছিলেন আর্জি রাহুলের কাছে

সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, এই উৎসবের মরশুম শুধু বড় ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, লাখ লাখ কর্মী, সেলসম্যান, সহকারী এবং ডেলিভারি কর্মীদের জীবন জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে ব্যবসা ধাক্কা খেলে পরিবারগুলোর ওপর বড় প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ী সমাজ রাহুলের কাছে আবেদন জানিয়েছে, তিনি যেন কংগ্রেস নেতৃত্বকে বুঝিয়ে এই মিছিল ১০ নভেম্বরের পর করার ব্যবস্থা করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পরে হলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু এই ব্যবসায়িক মরশুম ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই চিঠিতে সই করেছেন ফেডারেশনের সভাপতি রাকেশ কুমার যাদব, সাধারণ সম্পাদক কমল কুমার এবং কোষাধ্যক্ষ দীপক মিত্তল। শুধু রাহুল গান্ধীকেই নয়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও আলাদা করে চিঠি পাঠিয়েছে ফেডারেশন। পাশাপাশি 'কিরাণা কমিটি দিল্লি' অখিলেশ যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে এই প্রতিবাদ সভা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর বিরুদ্ধে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের নেতৃত্বে 'ইন্ডিয়া' জোটের এই মেগা ব়্যালি করার কথা রয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও এই মিছিলে যোগ দিতে আবেদন জানান হয়েছে। রাহুল গান্ধী গতকালই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিছিলে দেশের সমস্ত নাগরিককে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ছাত্র ও তরুণদের কাছে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে আর চিন্তা নেই। এবার আর পুলিশ লাঠিচার্জ করার সাহস পাবে না। পাল্টা মিছিল থেকে যাতে হিংসা না ছড়ায় তারজন্য এখন থেকেই মরিয়া চেষ্টা করছে দিল্লি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই দিল্লিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে।