- Home
- India News
- ডাবল ইঞ্জিনের খেলা শুরু! মাসে ৩০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ, মিলবে ১৮ হাজার টাকা! কীভাবে আবেদন করবেন?
ডাবল ইঞ্জিনের খেলা শুরু! মাসে ৩০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ, মিলবে ১৮ হাজার টাকা! কীভাবে আবেদন করবেন?
রাজ্যে ৩০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ এবং বছরে ১৮ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা এই সুবিধা পাবেন, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কী কী নথি লাগতে পারে—জেনে নিন বিস্তারিত।

রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের জোর চর্চার মাঝেই সামনে এসেছে নতুন এক বড় সুবিধার খবর। দাবি করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্রি বিদ্যুৎ দেওয়ার পাশাপাশি বছরে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনাটির জন্য একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় পঁচাত্তর হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রায় এক কোটি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের বাড়িতে সৌরশক্তির আলো পৌঁছে দেওয়া।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উপভোক্তারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। প্রথাগত বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব পরিকাঠামোয় বিদ্যুৎ তৈরি করাই এই উদ্যোগের আসল লক্ষ্য।
প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ (Free Electricity Benefits)
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় সুবিধা হলো বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ। যদি কোনো পরিবার তাদের বাড়ির ছাদে ৩ কিলোওয়াট (kW) ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলে, তবে তারা প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।
এর ফলে সাধারণ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রথাগত গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা প্রায় থাকবেই না। মাসের শেষে চড়া বিদ্যুৎ বিলের যে দুশ্চিন্তা থাকে, তা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।
সূত্রের খবর, মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক স্বস্তি দিতেই এই ধরনের প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের বিল এবং সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া বহু পরিবারের কাছে এই প্রকল্প বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বছরে মোট ১৮ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা মিলতে পারে।
নেট মিটারিং ও অনুদান পাওয়ার শেষ ধাপ (Net Metering and Subsidy)
সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণভাবেInstalled বা স্থাপিত হয়ে যাওয়ার পর, উপভোক্তাকে পুনরায় পোর্টালে গিয়ে সেই সংক্রান্ত তথ্য এবং ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে বাড়িতে একটি নেট মিটার (Net Meter) সংযোগ করা হবে।
এই বিশেষ মিটারটি সৌরশক্তি থেকে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ এবং গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের হিসাব রাখবে। সমস্ত কাজ নিয়মমাফিক সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ দপ্তর একটি কমিশনিং সার্টিফিকেট (Commissioning Certificate) বা কার্যকারিতা শংসাপত্র জারি করবে।
এই কাগজটি পোর্টালে আপলোড করে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিলেই মাত্র ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে প্রাপ্য সরকারি ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পর অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, বিদ্যুতের বিল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে হতে পারে।
অনলাইন আবেদন চালু হলে সরকারি পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে অফলাইনে স্থানীয় প্রশাসনিক দফতর বা ক্যাম্পের মাধ্যমেও আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে।

