গ্যাসের পর এবার পেট্রোলের দাম বাড়ল। প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা থেকে ২.৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত সেইসব ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে, যারা হাই-অকটেন বা প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করেন।
গ্যাসের পর এবার পেট্রোলের দাম বাড়ল। প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা থেকে ২.৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত সেইসব ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে, যারা হাই-অকটেন বা প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করেন। সাধারণত ইঞ্জিনের উন্নত কার্যক্ষমতা এবং ভাল মাইলেজ পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই মূল্যবৃদ্ধি HPCL-এর ‘Power’ পেট্রোল এবং IOCL-এর ‘XP95’-এর মতো ব্র্যান্ডেড জ্বালানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণত ইঞ্জিনের উন্নত কার্যক্ষমতা এবং জ্বালানির অধিক সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রিমিয়াম জ্বালানিগুলো বাজারজাত করা হয়ে থাকে। তবে সাধারণ পেট্রোলের দামের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি এবং তা অপরিবর্তিতই রয়েছে।
কেন দাম বাড়ল?
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, তবুও বিশেষজ্ঞদের ধারণা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পরিবহন বা লজিস্টিকস ব্যয়ের পরিবর্তনই হতে পারে এর মূল কারণ। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি কাঠামোতে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ আমদানি করে; আর বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির খরচের ওপর প্রভাব ফেলে। ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর—বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিক্রেতাদের ওপর—চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
ভারতের অপরিশোধিত তেলের ঝুড়ির (Crude Oil Basket) গড় মূল্য—অর্থাৎ যে দরে দেশের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো তেল আমদানি করে—গত ১৭ মার্চ ব্যারেল প্রতি ১৪৬.০৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এটি ফেব্রুয়ারির গড় মূল্য ৬৯.০১ ডলারের তুলনায় ১১১.৭ শতাংশের এক বিশাল লাফ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তেলের দাম ছিল ৭০.৯০ ডলার; তা বেড়ে ১২ মার্চ ১২৭.২০ ডলারে পৌঁছায়, এরপর ১৩ মার্চ তা ১৩৬.৫৬ ডলার এবং ১৬ মার্চ তা আরও বেড়ে ১৪২.৬৯ ডলারে দাঁড়ায়। পশ্চিম এশিয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ যে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, এই মূল্যবৃদ্ধি তারই প্রতিফলন।
তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (OMCs) ক্ষেত্রে ডিজেল ও পেট্রোলের মুনাফার মার্জিন প্রতি লিটারে ৬.৩ টাকা পর্যন্ত কমে যেতে পারে; অন্যদিকে, এলপিজি (LPG) বিক্রিতে লোকসানের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ১০.২ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে, এলপিজি খাতে বার্ষিক 'আন্ডার-রিকভারি' বা লোকসানের পরিমাণ ৩২,৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।


