বেসরকারি হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি ১৩৭টি ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ সহ মোট ৫৪৩টি ওষুধের দাম কমিয়েছে।
১১ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়। জীবনদায়ী ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল মুনাফা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। তারপরই দাম কমল ক্যান্সারের ওষুধের। ৫৪৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য সংশোধন করল ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি। সংশোধিত তালিকায় ১৩৭টি শ্রেণির ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের দাম কমানো হয়েছে। কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্যহ্রাস ৯০ শতাংশের বেশি। জানা যাচ্ছে, এই নতুন দাম কার্যকর হবে ৯ নভেম্বর থেকে।
এই সংশোধির মূল্যতালিকায় আছে স্তন ক্যান্সারের ওষুধ। যেমন পালবোসিক্লিব-র একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও প্যাকের দাম ৪০,৪২১ থেকে কমিয়ে ২,৭২০ করা হয়েছে। অ্যানাস্ট্রোজল-র ব্যান্ড ওমাজল-র দাম কমে হয়েছে ৩৯ টাকা ৪২ পয়সা। ইমিউনোথেরাপিতে ব্যবহৃত কিট্রুডা-র দাম ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫০০ টাকাই থাকবে। দাম বদল হয়নি ট্যাগ্রিসো, টেসেনট্রিক, ডারজালেক্স এবং ইমফিনজি-র মতো ওষুধের দাম বদল হয়নি। বিশেষজ্ঞের মতে, সংশোধিক তালিতায় একাধিক বহু জাতিকে সংস্থার ওষুধের নাম না থাকায় মূল্যনিয়ন্ত্রণের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সদ্য ক্যান্সারের ওষুধের দাম সংশোধনের এই খবরের আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে জানানো হয়, এক ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রী একটি নামী বেসরকারি হাসপাতেল চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ইনজেকশনের দাম ১ লক্ষ ৩০ হাজার ধার্য করেছিল হাসপাতাল। যার ডিলার মূল্য ছিল ১১ হাজার টাকা।
সে যাই হোক, এবার সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত রোগী এবং তার পরিবারের কাছে কতটা স্বস্তি নিয়ে আসবে তা নির্ভর করবে নতুন দাম বাস্তে কতটা কার্যকারী হচ্ছে তার ওপর। এনপিপিএ নন শিডিউলড ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের বিক্রির মার্জিন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।






