শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চেন্নাই পৌঁছে গেলেন। এখানেই মামাল্লাপুরম বা মহাবলীপুরমে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় ঘরোয়া বৈঠক হওয়ার কথা। শি আসবেন বিকেলে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চেন্নাই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিত, মুখ্য়মন্ত্রী ইকে পলানিস্বামী ও অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা।

চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এর আগে গত বছর ২৭-২৮ এপ্রিল চিনের ইউহানে এই ধরণের ঘরোয়া সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন। সেই সাক্ষাতের ফলেই সেই সময়ের চিন-ভারত দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়েথছিল। তার আগে চিন-ভারত-তিব্বত সীমান্তের ডোকালামে টানা ৭২ দিন ধরে চিনা ও ভারতীয় সেনা সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল। কিন্তু পরে বেশ কিছু বৈঠকের পর দুই পক্ষই পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ঘরোয়া বৈঠক উত্তেজনার আঁচ একেবারে নিভিয়ে দিয়েছিল।  

তারপর থেকে কুইংদাও ও বিসকেক-এ দুটি এসসিও শীর্ষ সম্মেলন, বুয়েনস আয়ার্স ও ওসাকায় দুটি জি২০ শীর্ষ সম্মেলন, জোহানেসবার্গে ব্রিকস বৈঠক - মোট পাঁচবার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রনেতা মিলিত হয়েছেন। ভারত-চিন সম্পর্কের ক্রমেই উন্নতি ঘটেছে। এবার মহাবলিপুরমের ঘরোয়া বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছে বিুদেস মন্ত্রক। একই সঙ্গে উন্নয়নেপর প্রশ্নে কীভাবে ভারত-চিন সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলা যায় সেই বিষয়েও মোদী ও জিনপিং মত বিনিময় করবেন।

তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। এমনিতে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক বেশ ভালো। বৈঠক শেষে যদি মোদী তাঁর সঙ্গে জিনপিং-এর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের পক্ষ নিয়ে জিনপিং-কে দিয়ে কোনও বিবৃতি দিইয়ে নিতে পারেন, তাহলে অবশ্যই এই বৈঠকে দারুণ লাভ করবেন নরেন্দ্র মোদী।