২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের লোকসভা নির্বাচন। তার আগে রবিবার রাজ্যে পা পড়ল জাতীয় রাজনীতির তিন হেভিওয়েট নেতার - প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুল যেমন লোকসভা ভোটের প্রচারের মতোই সেই মোদী-শাহ বিরোধিতাতেই মগ্ন থাকলেন, তেমনই নরেন্দ্র মোদীও আগের চতুরতাতেই হ্যাঁ অথবা না-এর গোলকধাঁধায় ফেলে মাত দিলেন বিরোধীদের।

এদিন মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারে এসে মোদীকে ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ করতে শোনা গেল। জলগাঁও-এর সভায় তিনি রীতিমতো গর্জনের সুরে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ক ধারা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে। তাঁরা এই বিষয়ে মোদী সরকারের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে কি না তা সাফ জানানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। অনেকটাই লোকসভা নির্বাচনে যেমনটা করেছিলেন ভারতীয় সেনা প্রসঙ্গে।

বিরোধীদের বেশিরভাগই, লোকসভার বাইরে বা ভিতরে, ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা নয়, বাতিল করার পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু মোদী এদিন এমনভাবে বিষয়টি পেশ করলেন, যে বিষয়টি হ্যাঁ কিংবা না - এই দুই বিকল্পের মধ্য়েই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল। তৃতীয় কোনও বক্তব্য রাখার জায়গা রইল না।

বিগত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়ও ঠিক এমন প্রচার কৌশলই নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি দল। সেই সময়ে ইস্যু ছিল পুলওয়ামা হামলা ও তার পরবর্তী সময়ে মোদী সরকারের পদক্ষেপ। বিরোধিরা পুলওয়াা কাণ্ডে সরকারের গাফিলতির প্রশ্ন তুললেও সেনার কথা বিরোধীরা বিশ্বাস করেন কি না, এই হ্যাঁ-না'ধর্মী প্রশ্ন তুলে বিরোধিদের তৃতীয়, চতুর্থ বক্তব্যগুলি সফল ভাবে চেপে দিতে পেরেছিল বিজেপি।

কাজেই মহারাষ্ট্রে ভোট প্রচারে দিনের শেষে ফের রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পপরাভুত হলেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।