ইতিহাস সৃষ্টির উদযাপন করার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে নেমে এল হতাশা। শেষ মুহূর্তে বহু প্রতীক্ষিত চন্দ্রাভিযান ভেস্তে গিয়ে যখন ভেঙে পড়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইসরোর বিজ্ঞানীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের নিয়ে গর্বিত গোটা দেশ।'

চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান নামার সাক্ষী থাকতে শুক্রবার ইসরোর সদর দফতরে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবকিছু ঠিকঠাক চললে রাত ১.৫২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে চাঁদের মাটিতে অবতরণের কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। কিন্তু চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার উপরে থাকা অবস্থায় ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ইসরোর। বিক্রমের থেকে কোনও সংকেত পাচ্ছে না ইসরো। এর বেশ কিছুক্ষণ পর ইসরো চেয়ারম্যান কে সিভন প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে পরিস্থিতির কথা জানান। উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ইসরোর বিজ্ঞানীদেরও। 

আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্স্থাপন করতে না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী গিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেন। দৃশ্যতই ভেঙে পড়া বিজ্ঞানীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা যা করেছেন, তাতে গোটা দেশ গর্বিত। জীবনে ওঠাপড়া থাকবেই। যে মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, আপনাদের সবার মুখ শুকিয়ে যেতে দেখলাম। এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। আপনাদের পরিশ্রম থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের অনেক অভিননন্দন। আপনারা দেশ, বিজ্ঞান এবং মানবতার অনেক বড় সেবা করেছেন। সাহস নিয়ে এগিয়ে যান। আমি আপনাদের পাশেই থাকবে। আপনাদের হাত ধরেই দেশ ভবিষ্যতে ফের এমন অভিযানে অংশ নেবে। দেখা যাক, ফের যোগাযোগ স্থাপন করা যায় কি না।' ভবিষ্যতেও মহাকাশ গবেষণায় সরকার যে ইসরোর পাশেই থাকবে, ব্যর্থতার হতাশার মধ্যেই সেই বার্তা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। গোটা দেশ থেকে যে পড়ুয়ারা ইসরোতে জড়ো হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে দেখা করেও নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন- শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা, চাঁদের কাছে গিয়েও হারিয়ে গেল বিক্রম

পরে টুইটারেও তিনি লেখেন, 'আমাদের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গোটা দেশ গর্বিত। তাঁরা সর্বদা নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন এবং দেশকে গর্বিত করেছেন। এই মুহূর্তগুলোয় সাহসী থাকতে হয়, আমরা সাহসীই থাকব। ইসরোর চেয়ারম্যান চন্দ্রযান ২ নিয়ে আপডেট দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী থাকছি এবং মহাকাশ গবেষণায় আরও পরিশ্রম করব।'

 

 

ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, কেন ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ল্যান্ডার বিক্রমের শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হল, সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।