তাঁর ঠাকুমার জেদ ছিল সর্বজনবিদিত। দেশে হোক বা বিদেশে ইন্দিরা গান্ধীর জেদ ও একনিষ্ঠতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে বারেবারে। এবার নাতনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মনে করাচ্ছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। শুক্রবারই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন সোনভদ্রের গুলিচালনার ঘটনায় মৃত আদিবাসী কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে তিনি এলাকা ছেড়ে যাবেন না। এসি না থাকা, বিদ্যুত না থাকা, সরকারি চাপ, একের পর এক পুলিশ কর্তাদের চাপ - কোনও কিছুই তাঁকে টলাতে পারল না। যা দেখে অনেকেই বলছেন, অবশেষে রাজনীতিক প্রিয়াঙ্কার আত্মপ্রকাশ ঘটল।

উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে যাওয়ার পথে শুক্রবার নারায়ণপুরেই তাঁকে আটকেছিল পুলিশ। কিন্তু সেখান থেকে নড়েননি কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের সভানেত্রী। রাত হয়ে গেলে জেলা প্রশাসন তাঁকে বারানসী ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। কারণ মির্জাপুহরে থাকার জায়গা বলতে চুনার গেস্টহাউস। যেখানে একটিও বাকতানুকূল ঘর নেই। রাত দশটার পর থেকে বিদ্যুতই থাকে না। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার সেই এক গোঁ, কৃষক পরিবারদের সঙ্গে দেখা না করে তিনি কোথাও যাবেন না।

আরও পড়ুন - আলো-পাখাহীন গেস্টহাউসেই রাত কাটালেন নামদার! জেদে মনে করাচ্ছেন ঠাকুমাকে

আরও পড়ুন - উত্তরপ্রদেশে প্রিয়ঙ্কাকে আটকের ঘটনায় যোগী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী

আরো পড়ুন - ভাটপাড়া, সন্দেশখালির পাল্টা সোনভদ্রে যাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদরা, বিজেপি-র উপরে চাপের কৌশল

ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষায় 'নামদার' পরিবারের সদস্য প্রিয়াঙ্কা শুক্রবার রাতটা থাকেন ওই এসি যন্ত বিহীন, আলো-পাখা বিহীন গেস্ট হাউসেই। তবে তিনি নামদার তকমা কাটাতে চাইলেই কি আর তাঁর দলের লোকেরা তা হতে দেবে? রাতে স্থআনীয় কংগ্রেস কর্মীরা একটি জেনারেটর ভাড়া করে এনে প্রিয়াঙ্কার ঘরে আলো পাতখার বন্দোবস্ত করে দেন। কংগ্রেস কর্মীরা তাঁর ঘরের বাইরে দাওয়ায় শুয়েই রাত কাটিয়েছেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের ঘরের বাইর অবশ্য অতন্দ্র প্রহরায় ছিলেন পুলিশ কর্মীরা। তিনি যাতে কোনও ভাবেই নিহত গ্রামবাসীদের পরিবারের কাছে পৌঁছতে না পারেন, তার জন্য যোগী সরকাকের চেষ্টায় ত্রুটি নেই। শুক্রবারই প্রিয়াঙ্কা একটি টুইট করে জানিয়েছিলেন, বারানসীর ও মির্জাপুর পুলিশের এডিজি, কমিশনাররা তাঁকে এসে তাঁকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আরও অভিয়োগ করেন কোনও রকম কারণ না দেখিয়েই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের অবশ্য দাবি প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়নি, আটক করা হযেছিল। কারণ সোনভদ্রে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা পাল্টা দাবি করেছেন, তিনি ১৪৪ ধারা মেনেই আর একজন সঙ্গীকে নিয়ে গ্রামে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সেই অধিকার তো দেওয়াই হয়নি, বদলে গ্রেফতার করা হয়। রাহুল গান্ধীও এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কাকে 'গ্রেফতার' করাটা আপত্তিজনক। এই ঘটনাকে যোগী সরকারের শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখছেন তিনি, যা আদতে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের নিরাপত্তাহীনতাকেই তুলে ধরছে।