Rahul Vs Modi: রবিবারই দেশের মানুষের কাছে সাতটি আবেদন জানিয়েছিলেন। এই আবেদনের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দেগেছেন। তিনি মোদীকে ব্যর্থ বলে কটাক্ষ করেছেন। 

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আর্থিক সংটক মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী রবিবারই দেশের মানুষের কাছে সাতটি আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি দেশের নাগরিকদের সংযত জীবন যাপন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই আবেদনের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দেগেছেন। সোমবার রাহুল গান্ধী মোদীকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রীর ৭টি আবেদনকে উপদেশ না বলে ব্যর্থাতার প্রমাণ হিসেবেই অভিহিত করেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাহুল গান্ধীর বার্তা

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেন। তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীকে আপোষকারী বলে কটাক্ষ করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন,দেশ পরিচালনার ভার এখন আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেরা জবাবদিহিতা এড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশ পরিচালনার দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। রাহুলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট হল, 'গতকাল মোদীজি জনগণের কাছে ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানিয়েছেন—সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, পেট্রোল কম ব্যবহার করুন, সার ও রান্নার তেলের ব্যবহার কমান, মেট্রোতে যাতায়াত করুন এবং বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো কোনো উপদেশ নয়—এগুলো হলো ব্যর্থতারই প্রমাণ। গত ১২ বছরে তিনি দেশকে এমন এক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন যে, এখন জনগণকে বলে দিতে হচ্ছে—কী কিনবেন আর কী কিনবেন না; কোথায় যাবেন আর কোথায় যাবেন না। প্রতিবারই তারা নিজেদের জবাবদিহিতা এড়ানোর জন্য দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেন। দেশ পরিচালনার বিষয়টি এখন আর একজন 'আপোষকারী প্রধানমন্ত্রীর' আয়ত্তের মধ্যে নেই।'

মোদীর বার্তা

রবিবারই হায়দরাবাদের একটি সভা থেকে নরেন্দ্র মোদী বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশবাসীর কাছে সাতটি আবেদন করেন। তিনি বলেন, 'বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারের উচিত রান্নার তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়া।' সেকেন্দ্রাবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রান্নার তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনা হলে তা কেবল জনগণের স্বাস্থ্যেরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'রান্নার তেলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এর আমদানির পেছনে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। যদি প্রতিটি পরিবার রান্নার তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনে, তবে তা দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে এক বিশাল অবদান হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের কোষাগারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে, তেমনি প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে'।

সার আমদানির ফলে সৃষ্ট আর্থিক বোঝার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাসায়নিক সার আমদানির পেছনে ভারত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে। তাই তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনেন। "বিদেশি মুদ্রা ব্যয়কারী আরেকটি খাত হলো আমাদের কৃষি। আমরা বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে রাসায়নিক সার আমদানি করি। আমাদের উচিত রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেক কমিয়ে প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতির দিকে ধাবিত হওয়া। এভাবে আমরা বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারি এবং আমাদের কৃষিজমি ও ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করতে পারি," তিনি বলেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশপ্রেমের আধুনিক সংজ্ঞাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সম্মিলিত আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে বক্তব্য রাখার সময়, প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংকটকে কেবল সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং জাতীয় চরিত্রের একটি অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেন। "দেশপ্রেম মানে কেবল সীমান্তে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতা নয়," প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। "বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশপ্রেমের অর্থ হলো দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা এবং আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জাতির প্রতি আমাদের কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করা।"

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি ছিল 'অর্থনৈতিক আত্মরক্ষার' একটি কৌশলগত নির্দেশিকা; তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তাদের ভোগ বা ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন করেন। জ্বালানির মূল্যের অস্থিরতা মোকাবিলায়, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা—যেখানে সম্ভব সেখানে মেট্রো ও গণপরিবহণ ব্যবহার করে—পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে আনেন; ব্যক্তিগত যানবাহনের প্রয়োজন হলে 'কার-পুলিং' বা যৌথভাবে গাড়ি ব্যবহারের পদ্ধতি বেছে নেন; পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেলপথে পরিবহণকে অগ্রাধিকার দেন; এবং যেখানেই সম্ভব, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি করেন।