Rahul Gandhi: আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে 'ভোট বাঁচাও' র‍্যালির ডাক দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তার ঠিক আগেই এক্সে 'সত্যম শিবম সুন্দরম' লিখে একটি গ্রাফিক পোস্ট করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।

আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে 'ভোট বাঁচাও' র‍্যালি। তার ঠিক কয়েকদিন আগে, মঙ্গলবার এক্সে 'সত্যম শিবম সুন্দরম' (সত্য, মঙ্গল ও সৌন্দর্য) লিখে একটি পোস্ট করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রাহুলের পোস্টে ত্রিপুণ্ড্র তিলক

রাহুল গান্ধী ওই পোস্টে একটি গ্রাফিক শেয়ার করেছেন। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর তিনটি সাদা দাগ, আর তার মাঝখান দিয়ে একটি লাল উলম্ব রেখা। ডিজাইনটি দেখতে অনেকটা মহাদেব শিবের 'ত্রিপুণ্ড্র তিলক'-এর মতো। গবেষক আন্তোনিও রিগোপোলোসের মতে, ত্রিপুণ্ড্র হলো কপালে আঁকা তিনটি অনুভূমিক ছাইয়ের রেখা। এটি শিবের ইচ্ছা, জ্ঞান এবং কর্ম— এই তিন শক্তির প্রতীক।

রাহুলদের আন্দোলন শিবের তাণ্ডব!

এর আগে রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভকে 'শিবের তাণ্ডব'-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই আন্দোলনের জন্য কোনও ধরাবাঁধা পরিকল্পনার দরকার নেই। বিক্ষোভ কোনও নির্দিষ্ট ছকের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা নানা রূপে চলতেই থাকবে। তিনি বলেন, "আমাদের প্ল্যান ছিল বাসে করে যাব, ওখানে বসব আর গ্রেপ্তার হব। কিন্তু পুলিশ আমাদের যেতে দেয়নি। তাই আমরা প্ল্যান বদলে ফেলি। আচ্ছা বলুন তো, ফলটা কি প্ল্যান থেকে এল, নাকি প্ল্যান না থাকা থেকে? আসলে কোনও প্ল্যানের দরকারই নেই। এই নাচ চলছে। এটা শিবের তাণ্ডব নৃত্য। শিবের এই শোভাযাত্রায় (শিব কি বারাত) যে কেউ যোগ দিতে পারেন। যার ইচ্ছে, সে-ই আসতে পারে।"

গত ১ জুলাই লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময়ও শিবের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন রাহুল। সেদিন শিবের একটি ছবি হাতে নিয়ে তিনি মহাদেবকে নির্ভীকতা, অহিংসা এবং সত্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

কংগ্রেস নেতা সেদিন 'অভয়মুদ্রা' নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সত্যের মুখোমুখি হওয়া, নির্ভীকতা এবং অহিংসার ধারণার বিবর্তনে এটি একটি বড় ধাপ। তাঁর মতে, বিশ্বের সব ধর্মই সাহসের ওপর জোর দেয়। নির্ভীকতা ও অভয়মুদ্রার প্রসঙ্গে তিনি ইসলাম, শিখ, খ্রিষ্টান এবং জৈন ধর্মের কথাও উল্লেখ করেন।

এদিকে, গত ২৫ অক্টোবর রাহুল গান্ধী ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবসমাজ এবং ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বরের 'ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও জনমার্চ ও মেগা র‍্যালি'-তে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। দিল্লির রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশ হওয়ার কথা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নিয়ম-কানুন ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এক্সে একটি পোস্টে রাহুল অভিযোগ করেন, "আমাদের ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে। আর কোনও অবস্থাতেই আমরা এটা চুপচাপ মেনে নেব না।"

১ নভেম্বরের কর্মসূচি

১ নভেম্বরের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে কংগ্রেস নেতা সবাইকে দিল্লিতে জড়ো হওয়ার ডাক দেন। তাঁর পোস্টে লেখা ছিল, “১ নভেম্বর - চলো দিল্লি। ভোট বাঁচাও - দেশ বাঁচাও জনমার্চ ও মেগা র‍্যালি।” তিনি আরও লেখেন, "ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবসমাজ এবং ব্যবসায়ী - যাঁরা গণতন্ত্রের পরোয়া করেন, তাঁদের সবাইকে আসতে হবে।"

এরপর সোমবার এক্সে আরও একটি আবেদন জানান রাহুল। এবার তাঁর নিশানায় ছিল দিল্লির ব্যবসায়ী মহল। দিল্লিতে প্রশাসনিক লকডাউন এবং যানজটের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর যে দাবি বিরোধীরা তুলছে, সেটাও ফের মনে করিয়ে দেন।

তিনি লেখেন, "দিল্লির প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে বলছি: আমরা আপনাদের ভালোবাসি এবং আপনাদের কথা শুনছি। সরকার মেট্রো বন্ধ করে দিয়েছে, রাস্তা আটকে দিয়েছে আর আমাদের রাজধানী লকডাউন করে রেখেছে। ভোট চুরি গেলে কোনও কিছুই আর সুরক্ষিত থাকে না - না আপনার দোকান, না আপনার জমানো টাকা, আর না আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ। মোদীকে বলুন ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে, দেখবেন ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সব বিক্ষোভ থেমে যাবে।"