- Home
- West Bengal
- DA: কী হবে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র? মলহোত্র কমিটির রিপোর্টে বাদ, ভরসা ডিসেম্বরের বৈঠক
DA: কী হবে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র? মলহোত্র কমিটির রিপোর্টে বাদ, ভরসা ডিসেম্বরের বৈঠক
DA Arrears: বকেয়া ডিএ নিয়ে ইন্দু মলহোত্র কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ নেই রাজ্যের গ্রান্ট ইন এইড কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের, অভিযোগ সংগঠনগুলির। ডিসেম্বরের বৈঠকে বিষয়টি তোলার পরিকল্পনা, নজর সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে।

সুপ্রিম কোর্টে ফের উঠছে বকেয়া ডিএ মামলা
পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর মামলা ফের উঠছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ২৭ অক্টোবর বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চে শুনানির জন্য মামলাটি তালিকাভুক্ত হয়েছে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীর নজর এখন সেদিকেই।

নতুন করে উদ্বেগ গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের
মামলার শুনানির আগেই বকেয়া ডিএ-র প্রশ্নে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, অর্থাৎ গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টে চলা প্রক্রিয়ার সুফল তাঁদের কাছে আদৌ পৌঁছবে কি না।
কারা পড়েন এই তালিকায়
সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সরকারি সংস্থার কর্মী ও পেনশনভোগীরা এই গ্রান্ট ইন এইড ব্যবস্থার মধ্যে পড়েন। রাজ্য সরকারের হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষেবা দেওয়া এই কর্মীদের ভূমিকা সরকারি পরিকাঠামোর বড় অংশ।
মলহোত্র কমিটির রিপোর্টে নেই উল্লেখ, অভিযোগ সংগঠনগুলির
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যে আরও একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অভিযোগ, সেই রিপোর্টে গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনও উল্লেখই নেই। এতেই বাড়ছে ক্ষোভ, বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে।
প্রায় আট লক্ষ কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
এক সরকারি সূত্রের দাবি, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ। সংখ্যার বিচারে তা রাজ্য সরকারি দফতরের কর্মীদের চেয়ে অনেকটাই বেশি। ফলে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর প্রাপ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটা না কাটার প্রশ্ন সহজে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
কেন কাটছে না অনিশ্চয়তা
গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, তাঁদের বেতন ও পেনশন দেওয়ার পদ্ধতি সরকারি দফতরের কর্মীদের থেকে আলাদা। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় তাঁদের বিষয়টি সরাসরি বিবেচনার জন্য ওঠেনি। এই দুই কারণেই মামলার ফলাফল তাঁদের ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
১৬ অক্টোবরের শুনানিতেও মেলেনি মূল প্রশ্নের উত্তর
চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর মামলাটির সংক্ষিপ্ত শুনানি হয়েছিল। ইন্দু মলহোত্র কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ চেয়ে একটি সরকারি কর্মচারী সংগঠন আবেদন করায় ওই শুনানি হয়। তবে বকেয়া ডিএ-র মূল বিষয় নিয়ে সেদিন কোনও আলোচনা হয়নি।
“তাহলে বিভাজন কেন?” প্রশ্ন শিক্ষক সংগঠনের
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা আছে, রোপা ২০০৯-এর আওতাভুক্ত সরকারের সমস্ত কর্মচারী বকেয়া ডিএ পাবেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারও ১৩ মার্চ নির্দেশ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তাহলে এখন মলহোত্র কমিটির দোহাই দিয়ে বিভাজন কেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক কিস্তির দাবি
স্বপন মণ্ডলের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী যেন ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক কিস্তি বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যবস্থা করেন। তা না হলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষোভ সামলানো কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এখন নজর শুনানি ও ডিসেম্বরের বৈঠকে
কর্মচারী সংগঠনগুলির নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানিতে গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বিষয়টি তোলার চেষ্টা হবে। আগামী ডিসেম্বরে মলহোত্র কমিটির সঙ্গে মামলার বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবিত বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত সেই বৈঠক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও পেনশনভোগীরা।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

